• গণপিটুনিতে নিহতের বাড়ি মেরামতি প্রশাসনের
    বর্তমান | ১১ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুরে নির্যাতিতাকে খুনের ঘটনায় কোনোভাবেই যোগ ছিল না তাঁর। তাও ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে এনে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে ছেলেকে। সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে এখনও ডুকরে কেঁদে উঠছেন মৃত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মা-বাবা। তাঁদের এক চিলতে ঘরে সেদিন তাণ্ডব চলেছিল। নির্বিচারে চলেছিল ভাঙচুর। এবার প্রশাসনের উদ্যোগে ওই বাড়ি মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে। আজ, শনিবার বারুইপুরে নির্যাতিতা ও ইন্দ্রজিতের বাড়ি যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তার আগে এলাকায় চলছে রাস্তা মেরামতির কাজ। নির্যাতিতার বাড়ির সামনের বেহাল রাস্তা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সারাই করা হয়েছে। পাশাপাশি সূর্যপুর হাট আসার রাস্তায় অসংখ্য ছোটো ও মাঝারি গর্ত রয়েছে। বর্ষায় সেই সড়কের আরও অবনতি হয়েছে। সেসব স্থানে ইট ফেলে ভরাট করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাতভর চলবে এই কাজ।

    সূর্যপুর সেতু ঘেঁষে বাড়ি ইন্দ্রজিতের। একতলায় একটি ঘরে বাবা-মাকে নিয়ে থাকতেন তিনি। দোতলায় থাকেন তাঁর ভাইপো। প্রশাসন থেকে এই বাড়ির ভিতরে প্লাস্টার, নতুন করে টিনের শেড, জানালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন ইন্দ্রজিতের বাড়িতে যান পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। ছিলেন আইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ কংকরপ্রসাদ বারুই। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ির মুখে এবং সামনে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। প্রশাসনের তরফ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও জামাকাপড় দেওয়া হয়েছে ইন্দ্রজিতের পরিবারকে। প্রশাসন পাশে দাঁড়ানোয় খুশি তাঁরা। তবে দোষীরা যেন সাজা পায়, সেই দাবি করছেন মৃতের বাবা-মা। ইন্দ্রজিতের বাবা অজিত মণ্ডল বলেন, পরিবারের কারও চাকরি হলে ভালো হয়। এলাকায় পুলিশের টহল আরও বাড়ানোর দাবি তিনি জানিয়েছেন।

    এদিকে, নির্যাতিতার বাড়ির সামনেও সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে পুলিশ। মৃতার বাবা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেলে অনেক কথা জানাব। সরকারের উপর আমাদের ভরসা আছে। মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, তাই করছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)