‘বিজেপির নিচুতলায় তৃণমূলীকরণ হবে না’, স্পষ্ট বার্তা শমীকের
প্রতিদিন | ১১ জুলাই ২০২৬
কেন্দ্রীয় স্তরে যে তৃণমূল নেতাদের বিজেপিতে নেওয়া হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য আলাদা। সংসদীয় রাজনীতির কথা মাথায় রেখেই এই যোগদান করানো হচ্ছে। তার মানে এই নয় যে রাজ্যেও বিজেপির নিচুতলায় তৃণমূলীকরণ হবে বা যথেচ্ছভাবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দলে নেওয়া হবে। শুক্রবার উলুবেড়িয়ায় সাংগঠনিক বৈঠকে এই বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। হাওড়া গ্রামীণ এলাকার দলীয় কার্যালয় মনসাতলায় দলের কোর কমিটির নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি সাংগঠনিক বৈঠক করেন শমীক। সেখান থেকে দেউলটির এক হোটেলে আসেন। সেখানে বাগনান ২ নম্বর মণ্ডলের বিজেপির দীনদয়াল উপাধ্যায় মহা প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে শমীক বক্তব্য রাখার পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়ে পদত্যাগী তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক, সুস্মিতা দেব পদ্মশিবিরে যোগদান করেছেন। তাঁদের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে যোগদানের কথা ঘোষণা করেন শমীক ভট্টাচার্য। ফের ব্যাখ্যা দেন ‘ভালো তৃণমূল’ মন্তব্যের। শমীকবাবু জানান, ‘‘তৃণমূল ছেড়ে তিনজন – সুখেন্দুশেখর রায়, ভাই প্রকাশ চিক বরাইক ও সুস্মিতা দেব আজ আমাদের সঙ্গে বিজেপিতে যোগদান করলেন। মোদির নেতৃত্বে গোটা দেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে শামিল হতে চেয়েই তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এলেন। আমরা আগেই বলেছিলাম, যারা চাকরি বিক্রি করেছে, দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ। এঁদের কারও বিরুদ্ধে এমন কোনও অভিযোগ নেই। সকলের একটা অতীত থাকে। এখন আর তাঁদের দলত্যাগী বলবেন না। তাঁদের একটাই পরিচয়, সকলে বিজেপি।”
জানা গিয়েছে, শুক্রবারের বৈঠকে শমীক সাফ জানিয়ে দেন যে কেন্দ্রীয় স্তরে তৃণমূলের দলত্যাগী তিন সাংসদকে বিজেপিতে নেওয়ার কারণ ভিন্ন। মূলত, সংসদীয় রাজনীতির লাভ-লোকসানের অঙ্ক, নানা বিল পাশে সুবিধার জন্য তাঁদের দলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু, তার মানে এই নয় যে রাজ্যেও যথেচ্ছভাবে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে নেওয়া হবে। এ নিয়ে কর্মীদের আশ্বস্তও করেন তিনি। শমীক বলেন, “ভালো তৃণমূল, খারাপ তৃণমূল বলে কিছু হয় না। তৃণমূল তৃণমূলই। তৃণমূলের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ।”