• দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় দগ্ধ হয়ে কর্মরত শ্রমিকের মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা
    প্রতিদিন | ১১ জুলাই ২০২৬
  • কুণ্ডলী পাকিয়ে পড়ে রয়েছে দগ্ধ দেহ। দেখে চেনার উপায় নেই। এমনই ভয়াবহ ঘটনা ঘটল দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায়। রোজকার মতোই কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ২ নম্বর ব্লাস্ট ফার্নেসে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ঠিকা শ্রমিকের। মৃতের নাম শেখ শহিদুল। দুর্গাপুরের আরতি গ্রামের বাসিন্দা। স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনায় শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর্থিক সাহায্যের দাবিতে সরব শ্রমিকরা।

    জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতের শিফটে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ব্লাস্ট ফার্নেস বিভাগে কাজ করছিলেন শহিদুল। তখনই রড ভেঙে গরম স্ল্যাগ ভর্তি ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে যায়। গভীর রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। সহকর্মীরা গিয়ে দেখতে পায় তাঁর ঝলসানো দেহ। নিরাপত্তার গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সহকর্মীরা। কারখানার বাইরে বিক্ষোভে শামিল হয়ে তাঁরা ক্ষতিপূরণের দাবি তোলেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পরিবারের একজন সদস্যকে অবিলম্বে অস্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে, উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবিও জানান তাঁরা।

    মৃত শ্রমিকের সহকর্মী মনোজ রুইদাস জানান, “আমরা দু’জনে একসঙ্গে কাজ করছিলাম। আমি কিছুক্ষণ বাইরে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি শহিদুলকে আর খুঁজে পাচ্ছি না। পরে জানতে পারি, সে ল্যাডেলের মধ্যে পড়ে মারা গিয়েছেন। ঠিক কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা আমি দেখিনি। তবে মনে হচ্ছে, কোনও রড ভেঙে যাওয়ায় তিনি নিচে পড়ে যান।” তবে সহকর্মীর এহেন মৃত্যুতে হতচকিত অন্য়ান্যরা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)