মাফিয়ার গাড়িতে পুলিশ ইনস্পেক্টরের চলাফেরা, খবর পেয়ে সরাল লালবাজার
বর্তমান | ১১ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাফিয়া-পুলিশ আঁতাঁত! হুগলি জেলার কুখ্যাত ডনের সঙ্গে একই গাড়িতে সফরের অভিযোগ উঠেছে কলকাতা পুলিশের এক ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে। ওই গাড়ি থেকেই চুঁচড়া থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে সোনা ওরফে সত্যরঞ্জন শীলকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ছয় লক্ষাধিক টাকা। কিন্তু কলকাতা পুলিশের সঙ্গে ওই মাফিয়ার সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট। ডনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই ওই ইনস্পেক্টরকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার প্রাক্তন অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ ওই ইনস্পেক্টরের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু করেছে লালবাজার।
পুলিশ সূত্রের খবর, হুগলি জেলায় জমি মাফিয়া হিসাবে পরিচিত সোনা শীল। জমি দখলের জন্য রয়েছে তার নিজস্ব অস্ত্রধারী বাহিনী। ভিভিআইপিদের কায়দায় তাকে কর্ডন করে নিয়ে যায় বাহিনীর সদস্যরা। তৃণমূল জমানায় চন্দনগর, চুঁচড়া, ব্যান্ডেলসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি মালিকদের বন্দুকের নলের সামনে রেখে কম টাকায় জমি বেচতে বাধ্য করার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ৯ জুন এক মহিলা চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ করেন, তাঁদের জমি দখল করে নিয়েছে সোনা শীল। তাঁর আত্মীয়ের জমির শেয়ারের একটা অংশ কম পয়সায় বেচে দিতে বাধ্য করা হয়। তারপর অভিযোগকারিণীকে পার্ক স্ট্রিটে একটি হোটেলে ডেকে পাঠায় এই মাফিয়া। তাঁর অংশটিও বেচে দিতে চাপ দেয় সে। কিন্তু তিনি রাজি না-হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি হুমকির সুরে বলে—পুলিশ, আমলা প্রভৃতি তার পকেটে! এরকম ভয় দেখিয়েই সে জানায়, প্রয়োজনে তাঁকে খুন পর্যন্ত করতে পারে সে। দলবল নিয়ে তাঁদের সম্পত্তিতে ঢুকে পড়েছে অভিযুক্ত। তার ভিত্তিতে চুঁচড়া থানা প্রতারণা, জালিয়াতি, অস্ত্র আইনসহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করা হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সোনা কলকাতায় রয়েছে। এরপর ৭ জুলাই তাকে বাগুইআটি এলাকায় একটি গাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে চন্দননগরের পুলিশ। ওই গাড়িতে মেলে সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা। তদন্তকারীদের নজরে আসে, ওই গাড়িতেই রয়েছেন কলকাতা পুলিশের দুই কনস্টেবল—রঞ্জিত রায় ও রাধাগোবিন্দ অধিকারী। তাঁরা কেন এই গাড়িতে! তখন তাঁরা জানান, স্যারের নিরাপত্তা রক্ষী হিসাবে! সোনার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে দেখিয়ে তাঁরা জানান, ইনি হলেন কলকাতা পুলিশের ইনস্পেক্টর। চন্দনগর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরা ওই অফিসারের নাম ও পরিচয় জানতে চান। একইসঙ্গে লালবাজারের কাছে জানতে চান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কলকাতা পুলিশে কর্মরত কি না। লালাবাজারের তরফে জানানো হয়, তিনি কলকাতা পুলিশেই কর্মরত! তদন্তকারীরা জেনেছেন, ওই ইনস্পেক্টরের সঙ্গে সোনার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ওই মাফিয়া কলকাতায় থাকলে তাঁরই সঙ্গে ঘুরে বেড়ান। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, তাহলে বিভিন্ন ‘প্রয়োজনে’ ওই ইনস্পেক্টর কি মাফিয়াকে সাহায্য করেন? বিষয়টি লালবাজারের গোচরে আসার পরই—ডনের গাড়িতে ওই ইনস্পেক্টর কেন ঘুরছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সর্ম্পকের বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়েছে।