• কলকাতা পুরসভায় পুনর্বিন্যাস, ২০০ ছোঁবে ওয়ার্ড সংখ্যা
    বর্তমান | ১১ জুলাই ২০২৬
  • অর্ক দে, কলকাতা: মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেওয়ার পর কলকাতা পুরসভায় এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেদিনই তিনি বার্তা দিয়েছিলেন, কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যায় বিস্তর অসামঞ্জস্য রয়েছে। এই কারণে প্রত্যেক নাগরিককে সুষ্ঠু পরিষেবা প্রদানের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর ওই বক্তব্যের পর প্রশাসনেরর অন্দরে জল্পনা শুরু হয়েছিল, তবে কি ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের পরই কলকাতায় পুরভোট হবে? পার্শ্ববর্তী হাওড়া পুরসভায় ডিলিমিটেশনের পর পুরভোটের সিদ্ধান্ত হওয়ায় সেই জল্পনা আরও গতি পেয়েছিল। অবশেষে সেই জল্পনায় পড়ল সিলমোহর! কলকাতাতেও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করেই ভোট হবে। বর্তমানে কলকাতায় ১৪৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, পুনর্বিন্যাসের পর ওয়ার্ড সংখ্যা ২০০ ছোঁবে। মূলত, ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে হবে ডিলিমিটেশন। ইতিমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। 

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরই রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত চিঠি আসে পুরসভায়। সেই মতো ময়দানে নেমে পড়েছেন পুরকর্তারা। কাজটি করবে মূলত পুরসভার সার্ভেয়ার এবং আইন বিভাগ। কোন ওয়ার্ডে কতগুলি বুথ, আয়তন কত, কতগুলি রাস্তা, ক’টি বাড়ি বা তার কী চরিত্র, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে পুর পরিষেবার কী কী পরিকাঠামো রয়েছে— এসব খুঁটিনাটি হিসাব করা হচ্ছে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে ২০০ হবে, এমন একটা ‘মাপকাঠি’ ধরে তাঁদের কাজ করতে বলা হয়েছে। এখন কলকাতার ভোটার সংখ্যা ৩২ লক্ষ ২৫ হাজারের কিছু বেশি। সরকার চাইছে এক-একটি ওয়ার্ডে ১৫-১৬ হাজার ভোটার থাকুক। এক পুরকর্তা বলেন, ‘এক্ষেত্রে ওয়ার্ডের সার্বিক জনসংখ্যার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। কারণ, ভোটার না হলেও প্রত্যেক শহরবাসীকে পরিষেবা দিতে হয়। এমনও হতে পারে, ভোটার সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বাঁধতে গিয়ে কোনো ওয়ার্ডে রাস্তার সংখ্যা কমে গেল বা পুর-পরিষেবার পরিকাঠামো হ্রাস হল। তাই এই বিষয়গুলি মাথায় রেখেই কাজ করতে হবে।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘৫০-এর বেশি ওয়ার্ড বাড়লে সেই সংখ্যক নতুন ওয়ার্ড অফিস, পুর-স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন পরিকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। বরোর সংখ্যা বাড়বে এবং সেই মতো বরো অঞ্চলও পুনর্বিন্যাস করতে হবে। তাহলেই সর্বত্র সমানভাবে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।’ 

    শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যার ফারাকটা কেমন? ই এম বাইপাস সংলগ্ন ধাপা-মাঠপুকুর সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড। এসআইআরের পর এই ওয়ার্ডে প্রায় ৫৬ হাজার ভোটার রয়েছেন। তিলজলা-তপসিয়া অঞ্চলের ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ৮৫ হাজারের বেশি। মুকুন্দপুর, নয়াবাদ সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে তৈরি ১০৯ নম্বর ওয়ার্ড। এখানে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটার আছেন। আবার ভবানীপুর অঞ্চলের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা মাত্র ১৪ হাজার। আয়তনের নিরিখে ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড কলকাতায় সবথেকে বড়ো। ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের আয়তনও বিশাল। সেই জায়গায় উত্তর কলকাতার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকা অনেক কম। আয়তন ও ভোটার সংখ্যার নিরিখে বড়োবাজার অঞ্চলের ২২ নম্বর ওয়ার্ড সব থেকে ছোটো। এই ধরনের ফারাক ঘোচাতেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস জরুরি বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    তবে পুরকর্তাদের ভাবতে হচ্ছে আরও একটি বিষয়। কাউন্সিলার সংখ্যা ২০০ হলে পুরসভার অধিবেশনকক্ষে সবার স্থান সংকুলান হবে তো? বিষয়টি কীভাবে ‘ম্যানেজ’ করা হবে, তা নিয়েও ইতিমধ্যে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন অঞ্চল পুরসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়েছে। শেষবার ২০১২ সালে জোকা অঞ্চলকে পুরসভার অধীনে এনে তিনটি নতুন ওয়ার্ড তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভোটার সংখ্যার নিরিখে সার্বিকভাবে পুনর্বিন্যাস সাম্প্রতিক অতীতে হয়নি।
  • Link to this news (বর্তমান)