• বারুইপুর ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর নজরদারিতে তদন্ত, নাম-পরিচয় দেখে ইন্দ্রজিৎকে খুন: শুভেন্দু
    এই সময় | ১১ জুলাই ২০২৬
  • বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের তদন্ত তাঁর নজরদারিতেই এগোবে। এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করবে সরকার। শুধু তা-ই নয়, গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের খুনিদের কড়া শাস্তিরও ব্যবস্থা হবে। শনিবার বারুইপুরে দুই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে এই কথা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মত, ইন্দ্রজিৎকে তাঁর নাম-পরিচয় দেখেই খুন করা হয়েছে। এর নেপথ্যে বিরোধী দলের, এমনকি ‘র‌্যাডিক্যাল মৌলবাদী’দেরও হাত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    গত মঙ্গলবার বারুইপুর এসপি অফিসে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবার এবং ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, সূর্যপুরে একটি পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করা হবে। পুলিশকে এই ব্যাপারে এক সপ্তাহের মধ্যে পদক্ষেপ করতে বলেছিলেন। শনিবার সেই ফাঁড়ি উদ্বোধন করতেই বারুইপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। প্রথমে যান নির্যাতিতার বাড়িতে। তার পরে ইন্দ্রজিতের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে ইন্দ্রজিতের দাদার হাতে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ২৫ লক্ষ টাকার চেকও দেন। তার পরেই তিনি পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধনে যান।

    সেখান থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্যাতিতার পরিবার পুলিশ প্রশাসনকে সাহায্য করেছে। আমাদের কথা শুনেছে। আমরা কৃতজ্ঞ। ওঁদের চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। ওরা পালিয়েও গিয়েছিল। বসিরহাটে বাংলাদেশ বর্ডারের কাছে চলে গিয়েছিল। পুলিশ ধরে এনেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নজরদারিতে তদন্ত হবে। কাস্টডি ট্রায়াল হবে। দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করা হবে।’ ধৃতদের মধ্যে অন্যতম প্রভাস মণ্ডল পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী কিছু বলতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, ‘ওই পার্টে আমি কিছু বলব না। সিআইডি তদন্ত করছে।’

    ইন্দ্রজিতের ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মব লিঞ্চিং বলব না। ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে নাম-পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। ভোটে যারা হেরেছে, তাদের মদত রয়েছে। র‌্যাডিক্যাল মৌলবাদীদের মদত থাকতে পারে। একজনকে বকখালি থেকে তুলেছে এনেছে পুলিশ। প্রত্যেক খুনিকে ধরা হবে। আমরা পরিবারের পাশে রয়েছি। ২৫ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছি। বড় ছেলেকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। বাবার বার্ধক্য ভাতা, মায়ের অন্নপূর্ণার টাকার ব্যবস্থা হয়েছে।’

    মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পরে ইন্দ্রজিতের দাদা বলেন, ‘আমরা তো আমাদের ঘরের লোককে হারিয়ে ফেলেছি। উনি আশ্বাস দিয়েছেন। পাশে থাকবেন বলেছেন।’ মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসবাণীতে খুশি নির্যাতিতার পরিবারও। নাবালিকার বাবা বলেন, ‘আশ্বাস পেয়েছি। তদন্ত চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশি তদন্তে আমরা খুশি।’

    মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদের নামে বারুইপুরে যাঁরা হিংসা ছড়িয়েছেন, ভাঙচুর করেছেন, তাঁরা কেউই রেহাই পাবেন না। তাঁর কথায়, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রতিবাদ হোক। গণতন্ত্রে তা দরকার। আমরা ওয়েলকামও করি। কিন্তু যারা ভাঙচুর করেছে, পুলিশকে মেরেছে, রেললাইনে লোহার বিম ফেলেছে, তারা কেউ ভারতপ্রেমী হতে পারে না। কড়া পদক্ষেপ হবে। অশান্তির ভয়ে স্থানীয় অনেকে দোকান বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এসপি মাইকিং করবেন। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু যারা ভাঙচুর করেছিল, তাদের ভয় পাওয়াটা জরুরি।’

    নাবালিকাকে ধর্ষণ এবং নৃশংস ভাবে খুনের ঘটনার নেপথ্যে বেআইনি মদের ঠেকও একটি কারণ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাজ্য জুড়ে অভিযান চালিয়ে সেই সব বেআইনি মদ-গাঁজার ঠেকে উপড়ে ফেলারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)