উত্তর ২৪ পরগনার বামনগাছি ঝিল থেকে উদ্ধার হলো পচাগলা দেহ। শনিবার সকালে স্থানীয় ঝিল পরিষ্কারের সময়ে দেহটি উদ্ধার হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, দেহটি বেশ পুরনো। একেবারেই কিছু বোঝা যাচ্ছে না। তবে কোনও পুরুষের দেহ হতে পারে বলে অনুমান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ দিন চাঞ্চল্য ছড়ায় বারাসতের বামনগাছির নিত্যানন্দ সরণি এলাকায়।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে এলাকার রাস্তাঘাট জলমগ্ন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ভোগান্তি বহুদিনের। তৎকালীন সরকার এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার দিকে নজরই দেয়নি। ফলে বৃষ্টি হলেই জল জমে পথেঘাটে। ঝিলের অবস্থাও একই রকম। পরিষ্কার না করায় পাঁক জমে রয়েছে সেখানে। সামান্য বৃষ্টিতেই রেল সংলগ্ন ঝিল ও আশপাশের এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। নতুন সরকারের কাছে এলাকার লোকেরা ঝিল পরিষ্কারের দাবি জানান।
শনিবার সকালে পঞ্চায়েতের উদ্যোগে মেশিন দিয়ে ঝিল পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়। সেই সময়েই ঝিলের ভিতরে একটি পচাগলা মৃতদেহ দেখতে পান শ্রমিকরা। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, মৃতদেহটি দু’মাস বা তারও বেশি সময় ধরে ঝিলের মধ্যে পড়ে ছিল। দেহটি এতটাই পচে গিয়েছে যে শনাক্ত করা যায়নি।
বামনগাছি থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুমিত মল্লিক বলেন, ‘নিকাশি ব্যবস্থা খারাপ বলে বিজেপির লোকজন ঝিল পরিষ্কার করাচ্ছে। আজ সকালে ঝিল পরিষ্কার করানোর সময়ে দেহটি উদ্ধার হয়। দেহ একেবারে পচে গিয়েছে। পা দু’টো আর গলার কাছে একটা সুতো দেখা যাচ্ছে। পুলিশ খোঁজখবর করছে।’ সুমিত জানান, এলাকায় কোনও নিখোঁজেরও খবর নেই। ফলে এই দেহ এলাকার কারও হতে পারে বলে মনে করছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বিজেপি নেতা দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, ‘এই ঝিল কয়েক বছর ধরে পরিষ্কার হয় না। এত নোংরা যে, মৃতদেহ পড়ে ছিল তা বোঝা যায়নি। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার পরে বারবার সরকারকে বলেছিলাম, পঞ্চায়েতে জানাই। কেউ কোনও কথা কানে তোলেনি। এ বার পুলিশ দেখুক খতিয়ে।’