• স্থানীয়রা ফেরত পেলেন কাটমানির টাকা, ফলতায় চাঞ্চল্য
    আজকাল | ১১ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভার বেলসিংহা অঞ্চলের বনহোগলা গ্রামে কাটমানি ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, পলাতক তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি গুরুপদ মণ্ডলের স্ত্রী সুচিত্রা মণ্ডল এবং তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ অনুগামী গ্রামবাসীদের হাতে প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন।

    দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ায় অনেক গ্রামবাসীর মুখে স্বস্তির হাসি ফুটলেও, ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

    স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফলতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত গুরুপদ মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে বেলসিংহা অঞ্চলের তৃণমূল সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

    অভিযোগ, জাহাঙ্গীর খানের নির্দেশেই গুরুপদ মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীরা সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে এলাকায় কাটমানি এবং তোলাবাজির একটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাস যোজনা, আমফান ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিপূরণ, বিভিন্ন সরকারি অনুদান এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হত।

    শুক্রবার বনহোগলা গ্রামে বেলসিংহা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাকলি মালির উপস্থিতিতে গুরুপদ মণ্ডলের স্ত্রী সুচিত্রা মণ্ডল, সহদেব মালিক এবং দীপঙ্কর মালিক গ্রামবাসীদের হাতে টাকা তুলে দেন।

    অভিযোগকারীদের তৈরি তালিকা অনুযায়ী যাঁদের থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আবাস যোজনার একটি বাড়ির জন্য সরকারিভাবে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেই টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল।

    কারোর থেকে ৪০ হাজার, কারোর থেকে ৩০ হাজার, আবার কারোর থেকে ২০ হাজার টাকাও নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু আবাস যোজনাই নয়, আমফান ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি সমর্থক হওয়ার অভিযোগে ঘরছাড়া হওয়া বহু মানুষ সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তাঁরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং কাটমানির টাকা ফেরতের দাবি তোলেন।

    অভিযোগ, কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং গুন্ডা দমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কাতেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।

    ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা দাবি করেন, জাহাঙ্গীর খানের নেতৃত্বে গুরুপদ মণ্ডল-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

    মানুষের ক্ষোভ এবং আইনের ভয়ে তাঁরা এখন কাটমানির টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁর কথায়, ‘আগে মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারতেন না। এখন মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। তাই যাঁরা বেআইনিভাবে টাকা নিয়েছিলেন, তাঁদের সেই টাকা ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।’

    গ্রামবাসী চন্দনা মণ্ডল বলেন, ‘আগে এলাকায় এমন পরিস্থিতি ছিল যে কোনও সরকারি সুবিধা পেতে গেলে তৃণমূল নেতাদের টাকা দিতে হত। আমার কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছিল। এখন সেই টাকা ফেরত পেয়েছি। প্রথমে ১ লক্ষ টাকা এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা হাতে পেয়েছি।’

    অন্যদিকে, বেলসিংহা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান কাকলি মালি বলেন, 'যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী ধাপে ধাপে গ্রামবাসীদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।'

    তিনি বলেন, ‘আমরা চাই স্বচ্ছতার সঙ্গে এলাকার মানুষের পাশে থাকতে। যাঁরা টাকা নিয়েছিলেন, তাঁরা নিজেরাই সেই টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এলাকার মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।’
  • Link to this news (আজকাল)