• হকার উচ্ছেদে এবার আসানসোলের ফুটপাতে চলল বুলডোজার, ক্ষোভ ব্যবসায়ীদের মধ্যে
    আজ তক | ১১ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যে পালাবদলের পর প্রশাসনিক কড়াকড়ি বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকা ফুটপাত ও সরকারি জমি মুক্ত করার লক্ষ্যে একের পর এক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। সেই লক্ষ্যেই এবার বুলডোজার নামল আসানসোলের রাহালেন মোড় থেকে গির্জা মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত ফুটপাতে। সেখানে হকার ও অস্থায়ী দোকান সরাতে বড়সড় অভিযান চালানো হল।
     
    প্রশাসনের দাবি, শহরের যানজট কমানো এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। তবে আকস্মিক অভিযানে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও হকারদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে। আসানসোলে শুক্রবার সকালে জিটি রোড সংলগ্ন এই রাহালেন মোড় থেকে গির্জা মোড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় পুর প্রশাসন। বুলডোজারের সাহায্যে ফুটপাত দখল করে তৈরি হওয়া একের পর এক অস্থায়ী দোকান ভেঙে ফেলা হয়। যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই কারণে গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। 

    বর্তমানে আসানসোল পুরনিগমে নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় প্রশাসকের নেতৃত্বেই এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের বড় অংশ দখল হয়ে থাকায় সাধারণ পথচারীদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। পাশাপাশি জিটি রোডের মতো ব্যস্ত সড়কে যানজটও ক্রমশ বাড়ছিল। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতেই ফুটপাত দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এই অভিযানের আগে বৃহস্পতিবার আসানসোল সফরে এসে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পুর প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে শহরের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা আর চলবে না এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের 24 ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার সকালে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে নামে।

    তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও হকাররা। তাঁদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ দোকান খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এত অল্প সময়ের মধ্যে, তার ওপর বৃষ্টির আবহাওয়ায় সমস্ত মালপত্র সরিয়ে নেওয়া কার্যত অসম্ভব ছিল বলে দাবি তাঁদের। অন্তত ২দিন সময় দেওয়া হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো যেত বলেও মত ব্যবসায়ীদের।

    ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে ১৫দিনের নোটিশ দেওয়া হলেও তার আগেই বুলডোজার চালিয়ে দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভাঙচুরের ফলে জামাকাপড়, কাস্টমারদের মোবাইল ফোন-সহ বিপুল পরিমাণ মালপত্র নষ্ট হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। পাশাপাশি অভিযানের সময় লুঠপাটের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। তাঁদের প্রশ্ন, যদি ১৫ দিনের নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই থাকে, তাহলে সেই সময়সীমা কার্যকর হওয়ার আগেই কেন উচ্ছেদ অভিযান চালানো হল।

    অন্যদিকে প্রশাসন নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। তাদের বক্তব্য, শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত, আগামী দিনেও শহরের অন্যান্য এলাকায় একই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চলতে পারে।

    রিপোর্টার- অনিল গিরি

     
  • Link to this news (আজ তক)