'সুপ্রিম কোর্টে আগে বিরোধিতা...', কামদুনি নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
আজ তক | ১১ জুলাই ২০২৬
আগের ঘোষণা মতোই শনিবার বারুইপুরে গিয়ে সূর্যপুরে পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে নির্যাতিতা ও নিহত কিশোরী কন্যার পরিবার এবং বারুইপুরে গণপিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। এরপর পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দুষ্কীতীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে কামদুনি ধর্ষণ কাণ্ড নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কামদুনির ক্ষেত্রে বারাসত কোর্টে দোষীদের ফাঁসির সাজা হয়েছিল। তারপর হাইকোর্টে সেই ফাঁসির সাজা খারিজ হয়ে যায়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল নির্যাতিতা ও নিহত কলেজ ছাত্রীর পরিবার। সরকার এবার সেই পরিবারকে সরকারি আইনজীবী দিয়ে সহায়তা দেবে। বাকিটা সুপ্রিম কোর্টের হাতে। আগে রাজ্য সরকার এর বিরোধিতা করছিল। এখন রাজ্য সরকারের তরফে কোনও বিরোধিতা করা হবে না। এসব ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনও ত্রুটি রাখবে না।"
বারুইপুরে ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তরা অনেক দূর পালিয়ে গিয়েছিল। বাংলার পুলিশ ও STF অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে তাদের পাকড়াও করেছে। আমি পরিবারকে আজ জানালাম, কাস্টডি ট্রায়াল হবে। এই কেসে দৃষ্টান্তমূলক নজির রাখা হবে। আমরা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি।"
অন্যদিকে, গণপিটুনিতে ইন্দ্রিজিৎ মণ্ডলের হত্যা প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, "এটাকে গণপিটুনি বলছি না। যুবকের নাম পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। যাদের ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সংগঠিত ভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এক্ষেত্রেও ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। নিহতের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। আমরা ওই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছি। ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু ইন্দ্রজিৎ-এর খুনিদের চূড়ান্ত, চরম শাস্তি দেওয়া হবে।"
পাশাপাশি বারুইপুরের সূর্যপুরে পরপর নানা ঘটনা ও পুলিশি পদক্ষেপে এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরপর গ্রেফতারির জেরে বহু পুরুষ এলাকা ছাড়া বলে দাবি করা হয়। দোকানপাটও রীতিমতো বন্ধ হয়ে যায়। এদিন সাধারণ মানুষকে সেই প্রসঙ্গে আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "ভিডিওতে যাদের দেখা গিয়েছে, যারা রেল লাইনে লোহার বিম ফেলছিল, তারা কখনও ভারতপ্রেমী হতে পারে না। এরা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে যুক্ত। ইন্দ্রজিতের খুনের সঙ্গে ভালোবাসা হতে পারে না। বাকি যদি কোনও নিরীহ লোককে ধরা হয়, ফেঁসে যায়, IG সাহেব বিষয়টি দেখবেন। যে সব দোকানপাট অনেকে ভয়ে বন্ধ করেছিলেন, তাঁদের ভয় পাওয়ার দরকার নেই। এসপি নিজে এই বিষয়ে মাইকিং করবেন।"
তবে আশ্বাসবাণীর সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, "ধর্ষকরা, খুনিরা, যারা রেল লাইন ভাঙতে গিয়েছিল, তারা ভয়ে থাকুক। ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। তাদের আইনি পথে শিক্ষা দেওয়া আমাদের কাজ। এই এলাকায় নজরদারি চলবে।"