• মেদিনীপুর মেডিক্যালে স্যালাইন কাণ্ডে পাঁচ জনকে শোকজ স্বাস্থ্যদপ্তরের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১১ জুলাই ২০২৬
  • মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্যদপ্তর। হাসপাতালের পাঁচ আধিকারিক ও কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার, অ্যাডিশনাল সুপার, স্টোর ইনচার্জ, সিস্টার ইনচার্জ এবং এক নার্স। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। শুক্রবার রাতেই মেদিনীপুর মেডিক্যাল পৌঁছোয় শোকজের নোটিস।

    ২০২৫ সালের ঘটনার পর ফের স্যালাইন বিতর্কে নাম জড়াল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের। অভিযোগকারী রোগী মানসী দে থাকেন মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর পল্লিতে। তাঁর পরিবারের দাবি, গত ৫ জুলাই কিডনি ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষার পর জানান, স্ট্রোক হয়েছে তাঁর। এরপর তাঁকে স্যালাইন দেওয়া হয়।

    রোগীর ছেলের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে তাঁর মায়ের বুকে জ্বালা শুরু হয়। সেই সময় স্যালাইনের বোতলটি ভালো করে লক্ষ্য করে দেখতে পান, সেটির মেয়াদ চলতি বছরের মার্চ মাসেই শেষ হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের সুপার-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।

    ঘটনার খবর পৌঁছতেই দ্রুত সক্রিয় হয় স্বাস্থ্যদপ্তর। একটি প্রতিনিধি দলকে মেদিনীপুর মেডিক্যালে পাঠানো হয়। তাঁরা হাসপাতালের সুপার ও মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যলোচনা করেন। পরে গোটা ঘটনার রিপোর্ট স্বাস্থ্যদপ্তরে জমা দেওয়া হয়। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই পাঁচ জনকে শোকজ করা হয়েছে।

    তবে মেদিনীপুর মেডিক্যালে স্যালাইন নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। ২০২৫ সালেও এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে পাঁচ জন প্রসূতিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় দুই সদ্যোজাতের মৃত্যুও হয়েছিল।যদিও পরবর্তী পরীক্ষার পর রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, ব্যবহৃত স্যালাইনে কোনও সমস্যা পাওয়া যায়নি। এবার ফের একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিষেবা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)