একরাতে ৬ খুন! পকসোয় জামিন পেয়েই স্ত্রী-সন্তানকে নিকেশ, হত্যা করলেন সপরিবার নির্যাতিতাকেও
প্রতিদিন | ১১ জুলাই ২০২৬
পকসো মামলায় অভিযুক্ত। কিন্তু জামিন পেয়েই এক এক করে ৬জনকে হত্যা করলেন! হাড়হিম কাণ্ডটি ঘটেছে তেলেঙ্গানায়। শুক্রবার রাতে কয়েকঘণ্টার মধ্যে ৬ জনকে খুনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে হায়দরাবাদের অদূরে রাঙ্গা রেড্ডি জেলায়। পরপর খুন করেও নির্বিকার অভিযুক্ত। নিজেই বাবাকে ফোন করে স্বীকার করেন হত্যালীলার কথা।
নৃশংস ঘটনার কেন্দ্রে রাজকুমার নামে ৩৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। গত ১৬ মে তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করে এক নাবালিকা। অভিযোগ, ওই নাবালিকার কোচিং সেন্টারে যাতায়াতের সময়ে পিছু নিতেন রাজকুমার। কুপ্রস্তাব দিতেন, যৌন হেনস্তাও করেছেন। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর বেশ কিছুদিন পলাতক ছিলেন রাজকুমার। অবশেষে আদালত তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করে সপ্তাহখানেক আগে। পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই নানা কুকীর্তির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাজকুমার। জুয়া খেলে বড় দেনাতেও ডুবে ছিলেন।
শুক্রবার রাত পর্যন্ত অবশ্য স্বাভাবিক আচরণ করেন রাজকুমার। রাত বাড়তেই হত্যা করেন নিজের চার বছর এবং এক বছর বয়সি শিশুপুত্রদের। সম্ভবত ঘুমের মধ্যেই হত্যা করা হয়েছে তাদের। দুই সন্তানকে খুনের পর চড়াও হন স্ত্রী পার্বতীর উপর। রীতিমতো ধস্তাধস্তি হয় দু’জনের। স্ত্রীকে খুন করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন রাজকুমার। সোজা চলে যান পকসো অভিযোগকারিণী বাড়িতে। সেখানে গিয়ে অভিযোগকারিণীর মা এবং ঠাকুমাকে খুন করেন রাজকুমার। তারপর গাড়িতে চাপিয়ে খানিকটা দূরে নিয়ে গিয়ে খুন করেন অভিযোগকারিণীকেও।
একটানা ৬জনকে হত্যার পর বাবাকে ফোন করে সমস্ত ঘটনা স্বীকার করেন রাজকুমার। স্বীকারোক্তিতে সম্ভবত ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এবার আত্মঘাতী হতে চলেছেন তিনি। বাবার সঙ্গে কথা বলার পরেই ফোন সুইচ অফ করে দেন রাজকুমার। তারপর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ নেই। আপাতত পুলিশের বিশেষ দল গড়ে রাজকুমারের খোঁজে তল্লাশি চলছে। একাধিক খুনের ঘটনাস্থলে গিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিবার সূত্রে খবর, খুনের আগে পার্বতীর সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণই করেছিলেন রাজকুমার। কেন এইভাবে হত্যালীলা চালালেন? উত্তর অজানা।