বারুইপুরে কিশোরীকে নৃশংস নির্যাতন-খুন! গত মঙ্গলবারের পর শনিবার ফের বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে কৃতজ্ঞতাও জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “প্রথম দিন থেকে আমাদের কথা শুনেছে। সাহায্য করেছে। পরিবারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। মঙ্গলবার দেখা করেছিলাম, যে ৪ জনের নাম বলেছিল, তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ ও এসটিএফ, ডিজিপির তত্ত্বাবধানে কাজ করেছে।”
বারুইপুরের নাবালিকাকে নির্যাতন ও গণপিটুনি, দু’টি পৃথক মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, “কাস্টডি ট্রায়াল হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক নজির রাখব। সবটা আমার মনিটরিংয়ে থাকবে। সরকারের দায়িত্ব ছিল। কীভাবে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি, আমি বলব না। পরিবারই সময় মতো সবটা জানাবেন।” এদিন বারুইপুরে গণপিটুনিতে মৃত ‘নির্দোষ’ ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ইন্দ্রজিতের বাবার বার্ধক্যভাতা ও মায়ের অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর কথাও জানান তিনি। প্রতিশ্রুতি মতোই এদিন ইন্দ্রজিতের দাদার হাতে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির কাগজও তুলে দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্যাতিতার পরিবার ৪ অভিযুক্তের নাম জানিয়েছিলেন, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই নাবালিকার বাবা-মা যে ইন্দ্রজিতের নাম বলেননি, তাও স্পষ্ট করেন তিনি। তা সত্ত্বেও ইন্দ্রজিৎকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণপিটুনি! বারুইপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, “ইন্দ্রজিতের নাম-পরিচয় সব জেনে আসলে পরিকল্পিত খুন করা হয়েছে। দোষীদের রেহাই নেই। যারা ভোটে হেরে হিংসায় উসকানি দিয়েছে। দেখুন তাদেরও কী ব্যবস্থা করি।” পাশাপাশি থমথমে বারুইপুরে মানুষকে নির্ভয়ে থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর হুঁশিয়ারি, “যারা হিংসার আগুন জ্বেলেছে, রেল লাইন উপড়েছে। এবার তারা ভয় পাবে। এখানে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করা হল। সাধারণ মানুষকে বলব, আপনারা ভয়মুক্ত হয়ে চলাফেরা করুন।” উল্লেখ্য, শনিবার নির্যাতিতার পরিবারের দাবি মতো মাত্র ৫ দিনে সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়িও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই উদ্বোধন হয়।