• 'নোংরা দেখলেই তেড়ে যান!' ৮০-র বৃদ্ধের ‘ঝাঁটা বিপ্লবে’ ধুলোবালিও গায়েব বাঁকুড়ার এই গ্রামে
    News18 বাংলা | ১১ জুলাই ২০২৬
  • : রক্ত চক্ষু। হাতে পায়ের চামড়া কুঁকড়ে গেছে। বয়সের ছাপ শরীরের প্রতিটি অংশে। তবুও বুকের আগুন যেন বেড়েই চলছে বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত এক গ্রামের বৃদ্ধ অশোক পাল। অশোক বাবুর নিঃস্বার্থ সমাজসেবার গল্প অবাক করতে বাধ্য সকলকে। বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর লোকসভার বিষ্ণুপুর বিধানসভার লায়েকবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত লায়েক বাঁধ গ্রামের বাসিন্দা অশোক পাল দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার রাস্তা নিজ উদ্যোগে প্রতিদিন দিনে দুবার করে পরিষ্কার করে থাকেন। আগে এই রাস্তা কাঁচা ছিল কিন্তু পরবর্তীকালে রাস্তা পাকা হয়েছে।

    ঝকঝকে পরিষ্কার রাস্তা, গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে। কিলোমিটার খানেক! রাস্তার উপর দিয়ে বড় চার চাকা সহ ভারী মালবাহী গাড়ি পর্যন্ত চলে, যাতায়াত বহু মানুষের। কিন্তু সেই রাস্তায় পড়ে নেই একটিও প্লাস্টিকের প্যাকেট। দেখতে পাওয়া যায় না চায়ের কাপ। একপ্রকার ধুলোবালিও যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে কোন এক কারণে। প্রতিদিন সকালবেলা ঝাঁটা হাতে বাড়ি থেকে বের হন অশোক পাল। কাঁধে থাকে একটি হলুদ বস্তা। বয়স বাড়লেও বজ্র কঠিন মুষ্ঠিতে ঝাঁট দেন গোটা রাস্তা। আবর্জনা পড়ে থাকলে সেগুলি তুলে ভরে নেন নিজের বস্তায়। কোনও চাহিদা নেই, নেই কোন আশা। নিঃস্বার্থভাবে নিঃশব্দে ৬৬ বছর ধরে এই কাজ করে আসছেন তিনি। জানেন না অনেকেই।

    অশোক পালের পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলে। তাঁর স্ত্রী জবা পাল বলেন, “অনেক বিরক্ত হয়েছি। তবে ঝাঁটা ছাড়াতে পারিনি। সারাদিন শুধু রাস্তা পরিষ্কার করে। শরীরও সাথ দিয়েছে ভগবানের কৃপায়।” স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে যে অশোক পালের এই প্রিয় রাস্তায় কেউ যদি একটুও আবর্জনা ফেলেন তাহলে তেড়ে যান তিনি। তবে বলাই বাহুল্য যে প্রত্যেকেই খুবই শ্রদ্ধা করেন তাঁকে।

    কেন এত নিবেদন? কিসের জন্য এই কাজ করছেন তিনি? জিজ্ঞেস করলে বৃদ্ধ অশোক পাল বলেন, “আমি রাস্তায় নোংরা দেখলে থাকতে পারিনা। কেউ ফেললে তাকে কড়া ভাষায় বলি। সারাদিন রাস্তাটা পরিষ্কার করি। ১২ বছর বয়স থেকে করছি। আমার আর কোনও কাজ নেই। রোজগার নেই। আগে মনসা মন্দিরের দেখভাল করতাম। তবে এখন পুরোপুরি ভাবে রাস্তাটাই আমার সব।”

    অনেকেই সরকারের অপেক্ষায় দিন গোনেন। অনেকেই আছেন যারা না বুঝে পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট অপরিষ্কার করেন। কিন্তু বছর ৮০ এর অশোকবাবু সবটাই নিজের হাতে তুলে নেন। তাঁর জীবন লায়েক বাঁধ গ্রামে সীমাবদ্ধ, শারিরীক কারণে নড়ন চড়ন কমেছে একটু। তব নতুন প্রজন্ম ওনাকে দেখে উদ্বুদ্ধ হবে বলেই আশা রাখছে স্থানীয় বাসিন্দারা। বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত এলাকায় নিঃস্বার্থ সমাজ সেবার এই নিদারুণ উদাহরণ উদ্বুদ্ধ করুক সকলকে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)