• অধীরের উপর আক্রমণকারীরা যা পেল দলের থেকে
    আজকাল | ১২ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনী প্রচার পর্বে বহরমপুর কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে গত ৯ মে বহরমপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বহরমপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকার। শনিবার সেই ভীষ্মদেব কর্মকারকেই বহরমপুরে জাতীয় কংগ্রেস কার্যালয়ের সামনে সংবর্ধনা দিয়ে কংগ্রেসে 'বরণ' করে নেওয়া হল। ভীষ্মদেব কর্মকারের হাতে জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা তুলে দেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী। সেই সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা। 

    প্রসঙ্গত গত ৪ এপ্রিল সকাল বেলায় বহরমপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় বহরমপুর কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল ভীষ্মদেব কর্মকার এবং তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বি টি কলেজ এলাকা একটি গলির ভেতর দিয়ে অধীর চৌধুরী এবং তাঁর সমর্থকরা মিছিল শুরু করতেই ভীষ্মদেব কর্মকারের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা অধীর চৌধুরী এবং কংগ্রেস কর্মীদের ওপর হামলা করেন। অধীর চৌধুরীকে সেই সময়ে ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। সেদিন অধীর চৌধুরীর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রক্ষীরা কোনওক্রমে তাঁকে ওই এলাকা থেকে বার করে নিয়ে যান। 

    এই ঘটনার পরই অধীর চৌধুরীর তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনে ভীষ্মদেব কর্মকার সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই মামলাতেই সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ভীষ্মদেব কর্মকার। যদিও গ্রেপ্তার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ওই মামলায় জামিন পেয়েছেন। 

    অধীর চৌধুরী আক্রান্ত হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে ওই হামলার মূল অভিযুক্তকে কংগ্রেস দলে যোগদান করানোই বহরমপুর শহরে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আড়ালে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের জামানায় ভীষ্মদেব কর্মকার বহরমপুর পুরসভার কাউন্সিলর ছাড়াও তৃণমূল দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা যুব সভাপতির পদে ছিলেন। 

    কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ভীষ্মদেব বলেন, "জাতীয় কংগ্রেস ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই। বহরমপুর শহরে ছাত্র -যুব রাজনীতি করতে, মানুষের কাজ এবং তাঁদের সহযোগিতা করার জন্যই কংগ্রেসে যোগদান করলাম। আগামী ১৩ তারিখ টেক্সটাইল মোড়ে আরও বড় একটি সমাবেশ হচ্ছে। সেদিন জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে অনেক নেতা এবং ছাত্রছাত্রীরা কংগ্রেস দলে যোগদান করবেন।"

    অধীর চৌধুরীর ওপর হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'একটি রাজনৈতিক দল করলে কিছু নির্দেশ থাকে। কখনও আইপ্যাক থেকে নির্দেশ এসেছে কখনও বা আমাদের দলের যিনি প্রার্থী ছিলেন তাঁর তরফ থেকে নির্দেশ এসেছে।" 

    গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, "ওই ব্যক্তি যে অধীর চৌধুরীর পথ আটকে কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করেছিলেন তা তিনি নিজেই পরোক্ষে আজ মঞ্চে স্বীকার করেছেন। বাঙালির মননে 'ক্ষমা' নামক একটি শব্দ রয়েছে।" 

    তিনি বলেন, "রাজীব গান্ধীর হত্যাকারীকেও সোনিয়া গান্ধী ক্ষমা করেছেন। ক্ষমা চেয়ে কেউ দলে এলে সেই দল বড় হয়। ভীষ্মদেব কর্মকারের কংগ্রেসের যোগদান নিয়ে কংগ্রেস কর্মীদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু 'দাদা' (পড়ুন অধীর চৌধুরী) তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।"
  • Link to this news (আজকাল)