গোপাল সাহা: কলকাতা শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল লালবাজার। শুধু আর মহিলা থানা পরিচালনা করা নয়, এবার শহরের মূল ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব সরাসরি তুলে দেওয়া হলো মহিলা অফিসারদের হাতে। এই তালিকায় অন্যতম নাম রূপা সিং, যিনি বেহালা ডিভিশনের সুরশুনা (সরশুনা) থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। আর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একেবারে চেনা ফর্মে, পুরোদমে অ্যাকশনে নেমে পড়েছেন এই সাহসী পুলিশ অফিসার।
টালিগঞ্জ মহিলা থানার ওসি হিসেবে কাজ করার পর রূপা সিংকে সুরশুনা থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশে দীর্ঘদিন পর কোনও মূল ধারার থানার ওসির চেয়ারে মহিলা অফিসারের এই আসীন হওয়াটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম দিন সকাল থেকেই তাঁকে থানায় অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি যে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে রাজি নন, তা তাঁর প্রথম দিনের কাজকর্মে স্পষ্ট।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর মুখোমুখি হওয়া হয়েছিল কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে। সেই খোলামেলা আড্ডায় উঠে এল তাঁর আগামীর পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাসের কথা:
প্রশ্ন: মহিলা থানা সামলানোর পর এবার একটি আস্ত মূল ধারার থানার ওসি হলেন। চ্যালেঞ্জটা কতটা বাড়ল বলে মনে করছেন?রূপা সিং: (হেসে) হ্যাঁ, চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই বেড়েছে, তবে আমি তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। থানায় সব রকমের অভিযোগ আসে, সাধারণ মানুষের হাজারো সমস্যা থাকে— আমার লক্ষ্য থাকবে খুব স্বচ্ছভাবে এবং দ্রুততার সঙ্গে সেগুলোর সমাধান করা। আমি এর আগেও মূল থানার কাজ করেছি। প্রথমে ওয়াটগঞ্জ থানায় ছিলাম, তারপর টালিগঞ্জ মহিলা থানার দায়িত্ব সামলেছি। প্রমোশন পাওয়ার পর লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগেও (ডিডি) প্রায় এক বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই মাঠপর্যায়ের কাজ হোক বা তদন্তের জটিল মারপ্যাঁক, সবটাই চেনা। এবার সুরশুনা থানার দায়িত্ব পেয়ে ভালো লাগছে।
প্রশ্ন: দীর্ঘ বছর পর কোনও মহিলা অফিসার হিসেবে মূল থানার দায়িত্ব পেলেন, অনুভূতি কেমন?রূপা সিং: ভীষণ ভালো লাগছে। তবে এটা শুধু আমার একার আনন্দ নয়, কলকাতা পুলিশের সমস্ত মহিলা অফিসারদের জন্য একটা অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। মহিলারা যে যেকোনও কঠিন পরিস্থিতি এবং চ্যালেঞ্জ হাসিমুখে সামলে নিতে পারে, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ।
প্রশ্ন: দায়িত্ব নিয়েই সকাল থেকে একেবারে অ্যাকশন মোডে আপনাকে দেখা যাচ্ছে...রূপা সিং: দেখুন, দায়িত্ব পাওয়া মানেই তো কর্তব্যের শুরু। তাই সময় নষ্ট করার কোনও জায়গা নেই। থানার কাজ পুরোদমে শুরু করে দিয়েছি। এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে সুরক্ষিত বোধ করেন, শান্তিতে ঘুমাতে পারেন— সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সবাই আমার ওপর ভরসা রেখেছেন। আশা করি, নিজের কর্তব্যে অবিচল থেকে নিষ্ঠার সাথে এই দায়িত্ব পালন করতে পারব।
কলকাতা পুলিশের এই সাহসী ও আধুনিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেকের মতেই, রূপা সিংয়ের মতো লড়াকু এবং দক্ষ অফিসারের হাতে থানার রাশ থাকায় এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা, বিশেষ করে নারী নিরাপত্তা আরও কয়েক গুণ মজবুত হবে। সুরশুনা থানায় রূপা সিংয়ের হাত ধরে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়— যেখানে চালিকাশক্তি খোদ 'নারী শক্তি'।