• হাওড়ার এই দুই গ্রামে গাজনের মহা ধুম, কুমিরকে জড়িয়ে ধরেই চলে সন্ন্যাসীদের কঠিন সাধনা
    News18 বাংলা | ১২ জুলাই ২০২৬
  • প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে প্রতিবছর সাড়ম্বরে কুমির পুজো অনুষ্ঠিত হয় গ্রামে। নদীমাতৃক বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে মূলত শক্তিশালী জলচর জীব কুমিরের হাত থেকে জীবন রক্ষা করার প্রার্থনায় এই পুজোর চল থাকলেও, এই গ্রামের নিয়মটি কিছুটা ভিন্ন। এখানে কুমিরকে স্বয়ং বাবা ধর্মরাজের বাহন হিসেবে মান্য করা হয়। তাই প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসের সন্ধিক্ষণে ধর্মরাজের গাজন উৎসবের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হিসেবে এই কুমির পুজো ও শালেভর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

    প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী, মূল ধর্মরাজ পুজোর নয় দিন আগে থেকেই প্রতিদিন সন্ধ্যায় গ্রামে ধর্মমঙ্গল কাব্যের পালাগান পরিবেশন করা হয়। গাজনের সময় গ্রামের বেশ কয়েকজন পুরুষ লোককল্যাণ ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁরা উপবাস, শালেভর ও চড়ক ঝাঁপ সহ বিভিন্ন কঠিন আচার-অনুষ্ঠান নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। সেই সঙ্গে তারা কুমির পুজো অংশ নেন। কুমির পুজোর আচার-অনুষ্ঠানেও রয়েছে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য।

    প্রচলিত নিয়ম অনুসারে, দেবতাকে অর্ঘ্য দেওয়ার জন্য ফল-ফুলের পাশাপাশি বিশেষ উপকরণ হিসেবে টাটকা পাতাসহ পেয়ারা থাকা বাধ্যতামূলক। কয়েক বছর আগেও ধর্মরাজ মন্দিরের সামনের মাঠে মাটি ও তেঁতুলদানা দিয়ে একটি বিশাল কুমির মূর্তি তৈরি করে পুজো করার রেওয়াজ ছিল। তবে বর্তমানে সেই নিয়মে কিছুটা বদল এসেছে। গ্রামবাসীরা এখন একটি স্থায়ী পাথরের কুমির বা শিলামূর্তিতেই পুজো সম্পন্ন করেন।

    বহু মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মিলনের এক উৎসবে পরিণত হয়। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই পাল্টালেও, হাওড়ার এই জনপদে আজও ধর্মরাজ ও তাঁর বাহন কুমির পুজোয় লোকসংস্কৃতির প্রাচীন ঐতিহ্যটি স্বমহিমায় টিকে রয়েছে। হাওড়ার গঙ্গাধরপুর ও গোণ্ডলপাড়া দু’টি গ্রামের ৮ থেকে ৮০ বয়সের মানুষ অপেক্ষায় থাকেন। পুজোর প্রায় দেড় দুই মাস আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু হয় গ্রাম জুড়ে। পুজোর ১৫ দিন আগে থেকেই প্রাচীন নিয়ম মেনে পুজোয় অংশ নেন গ্রামের মানুষ।
  • Link to this news (News18 বাংলা)