বাম আমলে ২ লক্ষ কোটি, তৃণমূল জমানায় ঋণ বেড়ে চারগুণ! শোধ করতে কত খরচ রাজ্যের? তথ্য দিলেন শুভেন্দু
প্রতিদিন | ১২ জুলাই ২০২৬
রাজ্যে পালাবদলের পরে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। উন্নয়ন ও শিল্পের কর্মযজ্ঞ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলায়। রাজ্যে শিল্পের ‘বন্ধ্যা’ অবস্থা কাটাতে মরিয়া শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এদিকে বাংলার উপর রয়েছে ঋণের বোঝা। প্রথম দিকে বাম সরকারের ঋণ, পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে সেই ধার কার্যত আকাশছোয়া হয়েছে! বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে বাংলাকে পুণর্গঠনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই কাজের পাশাপাশি ঋণও মেটানোর কাজ চলছে। আগের সরকারের করা ধার শোধে কত টাকা গুণতে হচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকারকে? সেই তথ্যই জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আজ, শনিবার হুগলির ডানকুনিতে লাক্স কোজির কারখানার দ্বিতীয় ইউনিটের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার বাংলার শিল্পে বড় বিনিয়োগ লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রিজের। ৬০০ কোটির লগ্নি এল বাংলায়। ডানকুনিতে ১২ লক্ষ বর্গফুট এলাকায় লাক্স কোজির কারখানার সম্প্রসারণ। গোমাতার সেবা করে অনুষ্ঠান যোগ দেন শুভেন্দু। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, “বাংলা আবার বিনিয়োগে ভারত সেরা হবেই। শিল্পের ক্ষরা কাটিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণে বাংলায় এবার নতুন জোয়ার। ডবল ইঞ্জিনের সুফল মানুষ পাবেনই।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায় উঠে এসেছে বিগত সরকারের সময়ে ঋণের অংশও। বাম আমলে মোটা টাকা ঋণ নেওয়া হত। ২০১১ সালের বাম সরকারের পতনের পরে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৫ বছরে একাধিকবার ঋণ নিয়েছেন। রাজ্যের উপর ঋণ ও সুদের বোঝা ক্রমে বেড়েছে। সেই নিয়েই এবার ডানকুনির মঞ্চ থেকে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “এই রাজ্য রেভিনিউতে প্লাস ছিল। এই রাজ্য তামিলনাড়ুর থেকেও ভালো, গুজরাটের থেকেও ভালো অর্থনীতিতে ছিল। বাম আমলে তারা যখন ছেড়ে চলে যায়, তখন ২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা। এখন আট লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা।”
ওই ঋণ সুদ-সমেত শোধ করতে হচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকারকে। এবার ক্ষমতায় আসার পরে প্রথমবার বাজেট পেশ করেছে বিজেপি সরকার। উন্নয়নের পাশাপাশি ওই টাকাও মেটানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে খবর। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ঋণের বোঝা ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে এক লক্ষ কোটি টাকা শুধু ঋণ শোধ করতে যাচ্ছে।” তাঁর কথায়, “বিনিয়োগ বাড়িয়ে নিজেদের রাজস্ব বাড়াতে হবে। বছরে ১ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক রেভিনিউ বাড়বে।” এদিন রাজ্যে কর্মসংস্থানের ‘ত্রিশক্তি’ তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।