ভোট ময়দানে রণকৌশল সাজাতে অতিরিক্ত ‘আইপ্যাক’ নির্ভরতাই ডুবিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত ভরাডুবির পর নেতাদের একাংশের মুখে এই সমালোচনা শোনা গিয়েছে। কেউ কেউ আইপ্যাক-বিরোধিতায় ঘাসফুল শিবির ত্যাগ করেছেন। কেউ আবার সমালোচনা করেও দলের সঙ্গে থেকে শিবির বদলেছেন শুধু। আর সেই অন্য শিবিরে গিয়ে পদপ্রাপ্তির পর সেই আইপ্যাককেই দুষলেন মমতার প্রিয় তৃণমূলের আদি সদস্য তথা বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)।
শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুব্রত মণ্ডলকে বীরভূমের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে ঋতব্রত শিবির। এই দায়িত্ব একসময়ে তিনি একাই সামলেছেন। এদিন কলকাতায় তাঁর আসার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি। তবে পদপ্রাপ্তির খবর তিনি জেনেছিলেন আগেই। এনিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কেষ্ট বললেন, ‘‘বিধানসভা এবং লোকসভা ভোটে প্রার্থীদের জয়যুক্ত করিয়েছি। তখন আইপ্যাক ছিল না। কী এমন হল যে আমাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল? আমি তৃণমূলকে ভালোবাসি। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল হয়েছি। সকলকে নিয়েই দলের নির্দেশ মেনেই টিম বীরভূম পরিচালনা হবে।”
বীরভূম জেলায় তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে বরাবর অনুব্রত মণ্ডল ছিলেন একমেবাদ্বিতীয়ম। তাঁর নেতৃত্বে রাঙামাটির দলীয় সংগঠন এতদিন ধরে জেলায় গেরুয়া প্রবেশ রুখে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এমনকী গরু পাচার মামলায় প্রায় ২ বছর জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে ফিরে জেলা সভাপতির পদটি অটুট রেখেছিলেন মমতার প্রিয় ‘কেষ্ট’। শেষ লোকসভা ভোটেও বীরভূমের দুটি আসন ধরে রেখেছিল তৃণমূল, তা অনুব্রতর তৈরি শক্ত সংগঠনের উপর দাঁড়িয়েই। পরে অবশ্য জেলা গোষ্ঠীকোন্দল বাড়তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর এককভাবে কেষ্টর উপর দায়িত্বভার ছাড়েননি। বীরভূমের সংগঠন দেখার জন্য তৈরি করে দিয়েছিলেন কোর কমিটি। অনুব্রত তাতে একজন সদস্যমাত্র ছিলেন। সেই থেকে ক্ষোভের সঞ্চার। এতদিন পর তা প্রকাশ্যে আসে।
ছাব্বিশের ভোটে দলের হতশ্রী ফলাফলের পর দলে ভাঙন নিয়ে অনুব্রতর মন্তব্য ছিল, ‘‘নতুন-পুরনো জানি না, আমি তৃণমূলকে ভালোবেসে দলটা করি। সম্মানের সঙ্গে দলের কাজ করব।” তার কয়েকদিনের মধ্যেই ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন বলে শোনা যায়। শুক্রবার তপসিয়ায় ঋতব্রতদের বৈঠকের পর জানা যায়, দলের পুরনো ও দক্ষ সংগঠককেই ফের বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হবে। শনিবার সেটাই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে ঋতব্রত শিবির।
এদিন কলকাতায় আসার কথা থাকলে জ্বরের জন্য আসতে পারেননি অনুব্রত মণ্ডল। বোলপুরের বাড়ি থেকে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমার প্রচণ্ড জ্বর। শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় বোলপুরের নিচুপট্টি বাড়িতে রয়েছি। কলকাতার বৈঠকে উপস্থিত হতে পারিনি। আগেও ছিলাম আবারও জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সকলকে নিয়েই দলের নির্দেশ মেনেই টিম বীরভূম পরিচালনা হবে।” ঋতব্রত শিবিরের অনুব্রতর এই পদপ্রাপ্তি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন কালীঘাট তৃণমূলের অন্যতম সদস্য সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, এদিন আসানসোলে দাঁড়িয়ে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ বলেন, “আমরা খুব হ্যাপি। আমি খুব হ্যাপি যে অনুব্রতকে নিয়েছে। আই অ্যাম ভেরি হ্যাপি যে অনুব্রত মণ্ডলকে অন্তত শুভেন্দু অধিকারী নিয়ে বলছে, এ হচ্ছে ধোয়া তুলসী পাতা।”