• জোড়া মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপত্তি কাশ্মীরে, পহেলগামে আচমকা হড়পা বান, আতঙ্কে পর্যটকরা
    এই সময় | ১২ জুলাই ২০২৬
  • জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে আবার ঘনাল বিপদ। ফের আতঙ্কে পর্যটকেরা। তবে এ বার আতঙ্কের কারণ প্রকৃতি। জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় শনিবার পরপর দু’টি মেঘভাঙা বৃষ্টির (ক্লাউডবার্স্ট) ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এর জেরে শাঙ্গুস (Shangus) এবং পহেলগামের একাধিক এলাকায় আচমকা নেমে আসে ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা হড়পা বান। প্রবল জলের তোড়ে ভেসে যায় রাস্তা। ফুলেফেঁপে ওঠে নদীগুলিও। হড়পা বানে হোটেলে জল ঢুকে যাওয়ায় ব্যাপক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পর্যটকেরা। তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত সবাই সুরক্ষিত আছেন। কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি।

    জানা গিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগামে আকস্মিক মেঘভাঙা বৃষ্টির (Cloud burst) জেরে নাল্লা আভোরার (Nallah Avoora) জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যায়। এর পরেই প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন প্রথম মেঘভাঙা বৃষ্টি হয় অনন্তনাগের শাঙ্গুস এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে। অল্প সময়ের মধ্যেই পাহাড়ি ঢল বেয়ে নেমে আসে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টি এবং একাধিক গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি কৃষিজমি, গ্রামীণ রাস্তা এবং ছোট সেতুর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছে।

    শাঙ্গুসে মেঘভাঙা বৃষ্টির কিছুক্ষণের মধ্যেই পহেলগাম এলাকাতেও মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়। প্রবল বৃষ্টিতে লিডার (Lidder) নদী এবং সংলগ্ন ছোট খাল ও নালাগুলিতে জলের স্তর দ্রুত বেড়ে যায়। বৃষ্টির তোড়ে পাহাড় থেকে নেমে আসে পাথর, কাদার স্রোত, যা ভেঙে গুঁড়িয়ে ভাসিসে নিয়ে যায় সবকিছু। বিশাল বিশাল গাছের গুঁড়িও স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসে। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় এই ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে উত্তাল জলস্রোতের ছবি ধরা পড়েছে।

    পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন দ্রুত সব সংশ্লিষ্ট দফতরকে হাই অ্যালার্টে রাখে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধারকারী দল, পুলিশ এবং পর্যবেক্ষণকারী কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    প্রশাসন জানিয়েছে, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দলকে দ্রুত হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নদী ও খালের ধারে না যাওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে।

    আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন জম্মু ও কাশ্মীরের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা এবং মেঘভাঙা বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)