এই সময়: হোম থেকে ২৩ বছরের মেয়েকে বাড়ি ফেরাতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক মা। কারণ হোম থেকে কিছুতেই বাড়ি ফিরতে চাইছেন না ওই তরুণী। তাই পরিবারের অভিযোগ মেয়েকে পরিবারের বিষয়ে ভুল বুঝিয়েছে হোম কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার মামলাটির বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে উঠলে তরুণী জানিয়ে দেন তিনি আর বাড়ি ফিরতে চান না। তাই হাইকোর্ট তাঁকে ফিরিয়ে দিল হোমেই। হতাশ মা ঘরে ফিরলেন খালি হাতেই।
আদালত সূত্রে খবর, অর্থাভাবের জন্য বহু বছর আগে ওই তরুণীকে হোমে রেখে এসেছিল পরিবার। তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর। ওই হোমে পাঁচ বছর কাটানোর পরে তাঁকে পশ্চিম মেদিনীপুর চাইল্ড রাইটস কমিশন বাবা–মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়। ততদিনে তিনি সাবালক হয়ে গিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পরে আচমকাই তরুণী ওই হোমে ফিরে যান। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই গন্ডগোলের সূত্রপাত। পরিবারের অভিযোগ, হোম কর্তৃপক্ষ মেয়েকে ভুল বুঝিয়েছে। তাই মেয়ে বাড়ি ফিরতে চাইছে না। তাই তাঁকে ফিরে পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন তরুণীর বাবা–মা। কিন্তু এ সবের মধ্যেই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। শেষমেশ মেয়েকে ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হন তরুণীর মা। এ দিন মামলা হাইকোর্টে উঠলে ওই তরুণী বাড়ি ফিরতে চান না বলেই বিচারপতিকে সাফ জানিয়ে দেন। কারণ জানতে এ দিন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তরুণীর সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা মেলেনি। ওই তরুণী কিছুতেই বাড়ি ফিরতে চাইছেন না।
তার পরেই হাইকোর্ট মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানাকে নির্দেশ দেয়, ওই তরুণীকে হোমে থাকতে কেউ বাধা দিতে পারবে না। ওই হোমে গিয়ে কেউ যাতে অশান্তি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। এ দিকে, হোমের আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী আদালতকে জানিয়েছেন, ‘মেয়েটি এখন সাবালক। তিনি যদি বাড়ি যেতে চান আমাদের আপত্তি নেই। এই ব্যাপারে পরিবারকে আমরা বার বার আশ্বস্থ করেছি। কিন্তু তরুণী কোনও কারণে পরিবারের কাছে যেতে নারাজ।’ আইনজীবীদের একাংশের ধারণা, পরিবারের থেকে এমন কোনও আঘাত পেয়েছেন ওই তরুণী, তাই তিনি বাড়ি ফিরতে চাইছেন না।