চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার
ভোটার তালিকায় নাম ছিল, কিন্তু রেশন কার্ড ছিল না। কোচবিহারে এমন ৬২ হাজার ভোটারের খোঁজ পেল খাদ্য দপ্তর। নাম যাচাইয়ের প্রক্রিয়া যত এগোবে, এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে দপ্তরের আধিকারিকদের অনুমান। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার)-এ নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের রেশন গ্রাহকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেখানেই জেলা খাদ্য দপ্তরের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। 'সার'-এ কোচবিহারে প্রায় এক লক্ষ ২২ হাজার ভোটারের নাম ডিলিট হয়েছে। বিচারাধীন থাকা আরও এক লক্ষের বেশি ভোটারের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
এর মধ্যে এক লক্ষ ৯৮ হাজার ভোটারের তালিকা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসন জেলা খাদ্য দপ্তরকে দেয়। এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ২০ হাজার নাম রেশন কার্ডের ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। খাদ্য দপ্তরের দাবি, যাচাই করা নামের মধ্যে প্রায় ৬২ হাজার মানুষের নামই রেশন ডেটাবেসে পাওয়া যায়নি। অথচ তাঁদের ভোটার পরিচয় ছিল এবং ভোটও দিয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট হয়েছে, তাঁরা আর রেশন সুবিধে পাবেন না। তবে যাঁদের মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাঁরা এর সুবিধা পাবেন। বিচারাধীনদের একাংশ ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। খাদ্য দপ্তরের হাতে আসা তালিকার মধ্যে প্রায় ১২ হাজার ভোটার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। সেই কারণে তাঁদের নাম আপাতত রেশন ডেটাবেস থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তালিকার ৭৮ হাজার নাম মেলানো এখনও বাকি রয়েছে। এই প্রক্রিয়া ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করে ফেলবে খাদ্য দপ্তর।
কী ভাবে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁরা রেশন ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন, সেটা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সীমান্তবর্তী কোচবিহারের প্রেক্ষিতে এই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য দপ্তর সূত্রের খবর, এই ৬২ হাজারের মধ্যে একাংশ পরিযায়ী শ্রমিক যাঁদের নামে রেশন কার্ড নেই। ডিলিট ভোটারদের মধ্যে একটা অংশ মৃত বলে তাঁরা এখন গণবণ্টন ব্যবস্থার বাইরে চলে গিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে যাঁরা এ পারে এসেছেন, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় উঠে গেলেও রেশন কার্ড তৈরি করা হয়নি বলে অনুমান।