• অনিয়ম, কারচুপি বন্ধই লক্ষ্য, ভিবি-জি রামজি-তে 'জিও ফেন্সিং'- এর ব্যবস্থা
    এই সময় | ১২ জুলাই ২০২৬
  • প্রশান্ত ঘোষ

    তৃণমূল সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় দীর্ঘ বছর ধরে বাংলার জন্য বরাদ্দকৃত টাকা আটকে রেখেছিল কেন্দ্র। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে 'ভিবি-জি রামজি' প্রকল্পে অনিয়ম রুখতে ব্যবহার করা হবে 'জিও ফেন্সিং' প্রযুক্তি। সরকারি কর্তাদের দাবি, এর ফলে ১২৫ দিনের কাজের এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে দুর্নীতি ঠেকানো সম্ভব হবে।

    আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, জিও ফেন্সিং প্রযুক্তির সাহায্যে ঠিক কোন জায়গায় কাজটা হচ্ছে, তার সঠিক লোকেশন জানা যাবে এবং ঠিক কতটা জায়গা জুড়ে কাজ সম্পূর্ণ হলো, সেটাও অফিসে বসেই জানা যাবে। সেই সঙ্গে চালু হচ্ছে 'ফেস অথেনটিকেশন সিস্টেম'। কাজে যোগ দেওয়ার আগে প্রত্যেকের মুখ স্ক্যান করা হবে। ফলে অন্যের জবকার্ড নিয়ে কেউ কাজ করতে এলে ধরা পড়ে যাবেন। তিনি আদৌ কাজের জায়গায় উপস্থিত হয়েছেন কি না, সেটাও ধরা পড়বে নয়া প্রযুক্তির সাহায্যে।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা যে রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন, তাতে দেখা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে কোথাও কাজ না করেই অথবা কোথাও আবার কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই কাজ বার বার করানো হয়েছে। এই ধরনের অনিয়ম রুখতে জিও ফেন্সিং প্রযুক্তি খুবই সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সরকারি আধিকারিকরা।

    সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, 'ভিবি-জি রামজি' প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ এলাকায় কাঁচা রাস্তা নির্মাণ, সরকারি পুকুর খনন, কাঁচা ড্রেন নির্মাণ, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট–সহ মোট ২০ ধরনের কাজ হবে। কেন্দ্রীয় ভাবে প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে থাকবে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। তবে সমস্ত দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় 'ভিবি-জি রামজি' প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে কাজ শুরু হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাগর ও ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলার মোট ২৯টি ব্লকের ৩১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই ধাপে ধাপে ১২৫ দিনের কাজে শুরু হবে। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, প্রতিটি ব্লকে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার জবকার্ড আছে। সব মিলিয়ে গোটা জেলায় প্রায় ১০ লক্ষ জবকার্ড হোল্ডার এই কাজে সামিল হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনে যুক্তধারা পোর্টালের মাধ্যমে এই কাজ পরিচালিত হবে। ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে দৈনিক মজুরির পরিমাণও আগের তুলনায় বাড়ছে।

  • Link to this news (এই সময়)