নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির প্রস্তুতি বৈঠক করতে এসে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিতে যোগদান করা প্রাক্তন তিন তৃণমূল সাংসদকে রাজ্যসভায় টিকিট দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে কল্যাণ বলেন, যাঁরা প্রথম থেকে বিজেপি করেছে, তাঁরা অনেক কষ্ট করেছেন। আপনারা নিজের জায়গা ছাড়বেন না। দেখবেন, তৃণমূলের চোর ডাকাতরা যেন টিকিট না পেয়ে যায়। শিল্পাঞ্চলে এসে বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ উসকে দিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ।
এদিন ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কীর্তি আজাদের নেতৃত্বে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক হয়। আসানসোলের বৈঠক শেষে কল্যাণবাবু বলেন, প্রকাশচিক বরাইককে বিজেপির মন্ত্রীই চোর বলেছিলেন। ওরাই তাঁকে রাজ্যসভার টিকিট দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে কটাক্ষ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শমীক ভট্টাচার্যকে কান না ধরে উঠবস করতে হচ্ছে। তিনি একবার উঠে বলছেন, তৃণমূলের কাউকে দলে নেব না। শুভেন্দু তা শুনে দিল্লিতে অভিযোগ করছে। দিল্লি নির্দেশ দিচ্ছে শমীককে। তিনি ফের বসে গিয়ে যোগদান করাচ্ছেন।
তৃণমূল সাংসদ আরও বলেন, যাঁরা তৃণমূল ছেলে চলে গিয়ে গদ্দারি করেছেন, তাঁরা শুভেন্দুর বি-টিম। তাঁরা নিজেদের বিধানসভা এলাকায়, লোকসভা এলাকায় যেতে পারছে না। এতে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। আমি খুব খুশি হয়েছি, অনুব্রত মণ্ডলও চলে গিয়েছে। শুভেন্দু ওকে পাশে বসিয়ে ধোয়া তুলসি পাতা বলবে।
তিনি আরও বলেন, ঋতব্রতপন্থী হয়ে যাওয়া নরেন চক্রবর্তী শেষ হয়ে গিয়েছে। এদিনের বৈঠকে প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক, প্রাক্তন বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, হরেরাম সিং, রাজ্য নেতা ভি শিবদাসন দাসু উপস্থিত ছিলেন। এদিন মোবাইলে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথাও বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আগামীকে মানতে হবে, মাতাল কল্যাণকে জানতে হবে। এই স্লোগান কে দিয়েছিল? তিনি আগে উত্তর দিন।
এদিন বর্ধমানেও দলীয় নেতৃত্বর সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের বর্ষীয়ান নেতা স্বপন দেবনাথ, দেবু টুডু, উজ্জ্বল প্রামাণিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কল্যাণবাবু বলেন, কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছে। সেই কারণে এত ভয় উপেক্ষা করেও এদিনের কর্মসূচিতে দলের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ২১ জুলাইয়ের সভা কোথায় হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। ঋতব্রত শিবিরকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ওদের সঙ্গে মাত্র ৮০জন রয়েছে। সাংবাদিক বৈঠক করা ছাড়া ওদের কোনো কাজ নেই। বর্ধমানের সাংসদ শর্মিলা সরকার ওদের দলে গিয়েছেন। কিন্তু এলাকায় এসে তিনি কোনো কর্মসূচি করতে পারছেন না। আসলে ওদের সঙ্গে মানুষ নেই।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূলের অন্যান্য নেতারা শিবির বদল করেননি। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন। কয়েকদিন ধরে দলের প্রবীণ নেতা স্বপন দেবনাথকে নিয়ে চর্চা চলছিল। কল্যাণবাবু বলেন, অনেকে বলতে শুরু করেছিলেন স্বপনবাবু নাকি অন্যদিকে চলে গিয়েছেন। কিন্তু সেটা মিথ্যা, তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।