একাধিক পুরসভায় স্পেশাল অডিটে দুর্নীতি ‘প্রমাণিত’, শুরু হচ্ছে দায়ীদের চিহ্নিতকরণ
বর্তমান | ১২ জুলাই ২০২৬
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: শুধু অভিযোগ নয়। পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যের একাধিক পুরসভায় দুর্নীতির অভিযোগ এবার প্রমাণিত হল একেবারে খাতায়-কলমে। নবান্ন সূত্রে খবর, অর্থদপ্তরের স্পেশাল অডিটে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রমাণ হাতে আসার পরই এই পুরসভাগুলিতে যাঁদের মাধ্যমে দুর্নীতি হয়েছে, সেই পদাধিকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হচ্ছে। তার জন্য অর্থদপ্তর ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিয়েছে বলে খবর। আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম, বেআইনিভাবে জমি হস্তান্তর, পদের অপব্যবহার করে এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যবহার, আদায় হওয়া সম্পত্তি কর জমা না দেওয়া এবং নিম্ন গুণমানের (বিলো স্পেশিফিকেশন) সামগ্রী কিনে মোটা টাকা বিল করার মতো অনিয়মগুলি স্পেশাল অডিটেই প্রমাণিত হয়েছে বলে খবর। সেক্ষেত্রে মাত্র ৬টি পুরসভাতেই দুর্নীতির অঙ্ক ৩০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে প্রশাসনিক মহল সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নেমেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেই মতো কাজে নেমেছিল স্পেশাল অডিট সেল। পুরসভা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এলে প্রাথমিক তদন্ত করে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধীন ‘ডাইরেক্টরেট অব লোকাল বডিজ’ (ডিএলবি)। তাতে দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক মনে হলে ডিএলবির তরফে স্পেশাল অডিটের আবেদন জানানো হয় অর্থদপ্তরকে। প্রশাসনিক মহলে কথিত আছে, এই অডিট সেলের অভিজ্ঞ আধিকারিকদের নজর থেকে আর্থিক নয়ছয় এবং অন্যান্য দুর্নীতি লুকিয়ে ফেলা কার্যত অসম্ভব। তদন্ত শেষ করে এই সেলই রিপোর্ট দেয়। দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তার জন্য দায়ী পদাধিকারী (এক্ষেত্রে পুরসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিক) চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে জলপাইগুড়ি, বাঁকুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বর্ধমান এবং হুগলি জেলার মোট ছ’টি পুরসভায় দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পর ডিএলবি এবং মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইরেক্টরেট (এমইডি)-কে ‘রেসপনসিবিলিটি ফিক্স আপ’ করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, পুরসভার কারা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তা চিহ্নিত করবেন এই দুই সংস্থার আধিকারিকরা। দরপত্র ডাকা, নির্মাণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজেও দুর্নীতি মেলায় দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অভিজ্ঞ আধিকারিক নিয়ে তৈরি এমইডি-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে পুরসভাগুলির নাম এখনই প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। তবে সাম্প্রতিক কালে স্পেশাল অডিটে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন বলেই মত অভিজ্ঞ আমলাদের। লেনদেন সংক্রান্ত নথি এবং তাতে থাকা সই ইত্যাদি দেখেই দুর্নীতির দায় কার, তা চিহ্নিত করা হবে। সেক্ষেত্রে যাঁরা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে ধরা পড়বে, তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় এফআইআর দায়ের করে আইনি পদক্ষেপ করাটাই নিয়ম।
তবে শুধু মাত্র ছ’টি পুরসভা নয়। অভিযোগ এসেছে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের আরও অনেক পুরসভার বিরুদ্ধে। তদন্ত রয়েছে বিভিন্ন স্তরে। হচ্ছে সোশ্যাল অডিট। যা সম্পূর্ণ হলে এসব পুরসভায় দুর্নীতির দায় নির্ধারণের কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।