অটোচালক ইন্দ্রজিতকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে, বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর
বর্তমান | ১২ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুকে কেবলমাত্র জনরোষের বহিঃপ্রকাশে গণপিটুনি হিসাবে দেখতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বরং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। বারুইপুরকাণ্ডে শনিবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটা কোনো গণপিটুনির ঘটনা নয়, নাম পরিচয় দেখে ওই যুবককে হাত পা বেঁধে খুন করা হয়েছে। কারা রয়েছে এর পিছনে, তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এর পিছনে ভোটে প্রত্যাখ্যান হয়েছে যারা, তাদের বড়ো উস্কানি রয়েছে। পাশাপাশি মৌলবাদী এবং অতিবাম শক্তিও থাকতে পারে। এই বিষয়টিকে একদম উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় যাদের ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করা হবে। ধৃতদের হেপাজতে রেখে বিচার প্রক্রিয়া হবে। কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে, পিটিয়ে খুন কাণ্ডে শরিফুল মল্লিক নামে একজনকে দীঘা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেখানে একটি হোটেলে লুকিয়ে ছিল সে। এছাড়াও পুলিশকে আক্রমণ, গাড়ি ভাঙচুর, রেললাইন উপড়ানো এবং পিটিয়ে খুনের অভিযোগে আরও চারজনকে পাকড়াও করা হয়েছে। ফলে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিন, ইন্দ্রজিতের বাড়ি গিয়ে তার বৃদ্ধ বাবা-মা’র হাতে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মৃতের দাদা বাপি মণ্ডলকে এই সূর্যপুর ফাঁড়িতেই সিভিক ভলেন্টিয়ারের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ইন্দ্রজিতের বাবা অজিত মণ্ডলের বার্ধক্য ভাতা এবং মা অনিমাদেবীর অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাও চালু করার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকার পাশে দাঁড়ানোয় সন্তষ্ট হলেও, ছেলে হারানোর বেদনা এখনও কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে এই বৃদ্ধ দম্পতিকে। অভিযুক্তদের যাতে কড়া শাস্তি হয়, এখন সেই আবেদনই রেখেছেন সরকারের কাছে। পাশাপাশি নির্যাতিতা নাবালিকার বাবার হাতেও এদিন মুখ্যমন্ত্রী ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হবে বলেও এদিন তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়। কিছুদিন আগে ফুটবল খেলা নিয়ে বিবাদের জেরে ফুলতলার যে তরুণ খুন হয়েছিলেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গেও এদিন বারুইপুর পুলিশ সুপারের অফিসে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই পরিবারের হাতেও ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন তিনি। তবে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় একাধিক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। এই নিয়ে ডিজি’র কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর তরফে। এদিন এই ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি তিনি।
সূর্যপুর সহ আশপাশের এলাকার অভিযোগ উঠছে, অনেক নিরীহ বাসিন্দাকেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এদিন নির্যাতিতার বাবা এ বিষয়টি দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, নির্যাতিতার বাবা বলছেন, প্রচুর গ্রেপ্তার হচ্ছে, স্থানীয় লোকজন চাপ দিচ্ছে। আমি বলছি যারা রেললাইনে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল, তারা কেউ ভারতপ্রেমী নয়। এটা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ। এদের সঙ্গে ভাব-ভালোবাসা হয় না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তবে আন্দোলনে যেসব নিরীহ লোকজন অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের যাতে হেনস্তা করা না হয়, সে ব্যাপারটি দেখার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছি।