• বৃষ্টির পরিমাণ আপাতত ধান চাষের জন্য পর্যাপ্ত, মত আবহাওয়াবিদদের, বিক্ষিপ্তভাবে চলবে বর্ষণ
    বর্তমান | ১২ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এল নিনোর প্রভাবে বর্ষাকালের বৃষ্টি কম হলে চাষবাসের কী হবে, তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে গোটা দেশেই। তবে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় জুন মাস থেকে এখনও পর্যন্ত যা বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা চাষবাসের জন্য মোটের উপর পর্যাপ্ত। দক্ষিণবঙ্গের অনেকগুলি জেলায় স্বাভাবিক হারেই বৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি জেলায় আবহাওয়াগত বিচারে বৃষ্টির ঘাটতি হলেও তা খুব কম হয়নি। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দুই দিনাজপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম প্রভৃতি জেলায় ঘাটতি থাকলেও সামগ্রিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ মিমি’র অনেকটাই বেশি। মুর্শিদাবাদে সবথেকে কম ২২৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। আবার দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ৩০০-৪০০ মিমির বেশি বৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এখনও পর্যন্ত ৪৭৩ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ধান চাষের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৩৭৩ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, ধানের চারা রোপণের সময় ২০০ মিমি বৃষ্টি হলে তা মোটামুটি ঠিকঠাক ধরা হয়। তবে বৃষ্টিপাতের সময়ের মধ্যে বেশি ‘গ্যাপ’ থেকে গেলে সমস্যা আছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অবশ্য বলছে, চাষবাসের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলিতে বর্ষাকাল শুরু হওয়ার পর থেকে মোটামুটি নিয়মিত বৃষ্টিপাতই হয়েছে।

    খরিফ ফসলের চাষের জন্য জুলাই-আগস্ট মাসের বৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ। জুন মাসে দেশের বড়ো অংশজুড়ে বৃষ্টির প্রচুর ঘাটতি ছিল। কিন্ত জুলাইয়ের শুরুতে বঙ্গোপসাগরে মরশুমের প্রথম নিম্নচাপ ঘনীভূত হওয়ায় মধ্য ও উত্তর ভারতে ঘাটতি কিছুটা কমেছে। দক্ষিণবঙ্গে পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার মতো জেলায়ও ঘাটতি অনেকটা কমে এসেছে। প্রথম সপ্তাহে দুই জেলায় ৭০ মিমির বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ধান চাষের প্রক্রিয়া মসৃণভাবে চলার জন্য জুলাই মাসেও কিছুটা বেশি বৃষ্টির প্রয়োজন। পরিস্থিতি এখনও পর্যন্ত ইতিবাচক। নিম্নচাপটি সরে গেলেও ঘূর্ণাবর্তর প্রভাবে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। আজও বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলবে রাজ্যজুড়ে। উত্তরবঙ্গের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী সপ্তাহে উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে।
  • Link to this news (বর্তমান)