তিন বছরের ‘খরা’ কাটিয়ে সমগ্র শিক্ষা মিশনে ২৭০০ কোটি টাকা পাচ্ছে রাজ্য
বর্তমান | ১২ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৩ সালের পর থেকেই আর মেলেনি ‘সমগ্র শিক্ষা মিশন’-এর টাকা। এই ‘খরা’ কাটার ইঙ্গিত মিলেছিল রাজ্যে পালাবদলের পরপরই। এই খাতে রাজ্য কত টাকা পাবে, এবার তাও জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, চলতি অর্থবর্ষে ‘সমগ্র শিক্ষা মিশনে’ বাংলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২৭০০ কোটি টাকা। এর ৬০ শতাংশ দেবে কেন্দ্র এবং বাকি ৪০ শতাংশ রাজ্যের। অর্থাৎ, কেন্দ্রের তরফে এই প্রকল্প বাবদ ‘ডবল ইঞ্জিন’ পশ্চিমবঙ্গকে এই বছরের জন্য দেওয়া হচ্ছে ১৬২০ কোটি টাকা।
‘সমগ্র শিক্ষা মিশন’ খাতের বরাদ্দ চালু হওয়ায় স্কুলগুলির দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য প্রয়োজনীয় ‘কম্পোজিট গ্রান্ট’ পেতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। এছাড়াও স্কুলগুলির সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও গতি পাবে। অনেক ক্ষেত্রেই যা কার্যত থমকে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে এক শ্রেণির চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকের বেতনবৃদ্ধিসহ দীর্ঘদিনের জমে থাকা ইস্যুগুলির সমাধান করা সম্ভব হবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে বরাদ্দের অঙ্ক রাজ্যকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই কেন্দ্রের এ সংক্রান্ত চিঠিও চলে আসবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
কেন দীর্ঘ তিন বছর বাংলার জন্য এই খাতের এক টাকাও আসেনি? জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ‘পিএম-শ্রী’ প্রকল্পের ‘মউ’ স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। পূর্বতন সরকার একাধিক যুক্তি দেখিয়ে সেই ‘মউ’ স্বাক্ষর করতে রাজি হয়নি। ফলে আটকে যায় ‘সমগ্র শিক্ষা মিশন’-এর টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর থেকেই বন্ধ অর্থ বরাদ্দ। সেক্ষেত্রে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের প্রায় ১৪০০ কোটি, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের প্রায় ১৭০০ কোটি এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রায় ১৯০০ কোটি মিলিয়ে রাজ্যের বকেয়া গিয়ে দাঁড়িয়েছিল পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। রাজ্যে পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে কেন্দ্রের ‘পিএম-শ্রী’ প্রকল্পের ‘মউ’ স্বাক্ষর হয় ১৫ মে। দিল্লিতে ‘সমগ্র শিক্ষা মিশন’-এর প্রজেক্ট অ্যাপ্রুভাল বোর্ডের বৈঠক হয় ১২ জুন। সেই বৈঠকের পরই রাজ্যকে চলতি অর্থবর্ষের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বিগত তিন বছরের বকেয়ার কী হবে? এই বকেয়া মেটানোর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের উপর। সোমবার রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর কাছে এই বকেয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হতে পারে বলে মত অভিজ্ঞ আমলা মহলের।