খুনের চেষ্টা, শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলার
বর্তমান | ১২ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অভিযোগ হয়েছিল। এফআইআরও হয়েছিল। কিন্তু, প্রাথমিক তদন্তের পর মামলা আর গতি পায়নি। কারণ অভিযুক্ত হলেন কলকাতা পুরসভার ১৪ নম্বর বরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান সংহিতা দাসের স্বামী অঞ্জন দাস। একসময়ে কাউন্সিলারও ছিলেন। পর্ণশ্রী, সরশুনাবাসী তাঁকেই ব-কলমে ‘কাউন্সিলার’ বলে চিনতেন। ২০২০ সালে স্থানীয় এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় অঞ্জনবাবু অভিযুক্ত হলেও, সে মামলার কিনারা হয়নি। ৬ বছর পর সেই মামলা নিয়ে এবার অ্যাকশনে পর্ণশ্রী থানা। আদালতের অনুমতিতে মামলার পরবর্তী তদন্তপ্রক্রিয়া চলে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে শনিবার প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা তৃণমূল নেতা অঞ্জন দাসকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুরের পাশাপাশি রবীন্দ্রনগরের এক বিজেপি কর্মীকে মারধর ও তাঁর স্ত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ যুক্ত করা হয়েছে ওই মামলায়। এদিন তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে চারদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
২০২০ সালের ৭ আগস্ট ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, রাতের বেলা অভিযুক্ত অঞ্জন দাস ও তাঁর ছয় শাগরেদ মিলে হামলায় চালায় ওই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে। পর্ণশ্রী থানা এলাকার রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা নিগৃহীত পরিবার। অভিযোগকারীর দাবি, সেই সময় ‘তৃণমূল-রাজ’ চলার জেরে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। প্রাথমিক তদন্তের পর কেসের ফাইলে ধুলো জমতে শুরু করে। বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর ওই মামলার তদন্তে ঢিলেমির অভিযোগ তুলে পর্ণশ্রী থানায় একটি চিঠি দেন অভিযোগকারী। ৩১ মে সেই চিঠি জমা পড়ে বলে লালবাজার সূত্রে খবর। ঘটনার দিন নিগৃহীতদের মেডিকেল পরীক্ষার নথি সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কাছে তাঁদের গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়। সেই জবানবন্দি অনুযায়ী, অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুরের পাশাপাশি খুনের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ধারা যুক্ত করার নির্দেশ দেয় আদালত। তার ভিত্তিতে পুরনো মামলাতেই দু’টি ধারা যুক্ত করে শনিবার অভিযুক্তের বাড়িতে যায় পর্ণশ্রী থানার পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। এই মামলায় একদা প্রভাবশালী অঞ্জন দাসের সঙ্গে আরও ছ’জন অভিযুক্ত। তাঁদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।