আলভারেজের ম্যাজিক্যাল গোল, ১০ জনের সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কষ্টের জয়ে সেমিতে মেসিরা
প্রতিদিন | ১২ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনা: ৩ (ম্যাক অ্যালিস্টার, আলভারেজ, লটারো)
সুইজারল্যান্ড: ১ (এনডয়ে)
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা ইস্তক দুটি বস্তু আর্জেন্টিনার নিত্যসঙ্গী। এক, ভাগ্যদেবতা। যিনি প্রায় প্রতি ম্যাচে সদয় হয়েছেন লিওনেল মেসিদের উপর। এবং দুই, লিওনেল মেসির ম্যাজিক। যা কিনা মৃত্যুর মতোই অবধারিতভাবে আছড়ে পড়েছে বিপক্ষের উপর। রবিবার ভোরেও ব্যতিক্রম হল না। তবে এদিন সেই সঙ্গে যুক্ত হল আরও দু’জনের ক্যারিশমা। একজন জুলিয়ানা আলভারেজ এবং আরেকজন গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজ। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের যোদ্ধারা অনবদ্য লড়াই করলেন ঠিকই কিন্তু দিনের শেষের শেষ হাসিটা হাসল আর্জেন্টিনাই। আলভারেজের ম্যাজিক গোলে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে মেসিরা।
নকআউটের প্রথম দুই রাউন্ডেই হোঁচট খেতে খেতে জিততে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। প্রথম রাউন্ডে কেপ ভার্দে রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছিল মেসিদের। দ্বিতীয় ম্যাচেও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়েছিল মহম্মদ সালাহর মিশর। কোয়ার্টার ফাইনালেও সেটার ব্যতিক্রম হল না। দীর্ঘক্ষণ ১০ জনে খেলেও লিওনেল মেসিদের এক্সট্রা টাইমে টেনে নিয়ে গেল সুইজারলান্ড।
রবিবার ভোরে ম্যাচের শুরুটা দারুন করেছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম গোলটি করেছিলেন আর্জেন্টিনার ম্যাক অ্যালিস্টার। সেখানেও সহায় সেই মেসি ম্যাজিক। কর্নার থেকে লিওর নিখুঁত ক্রসে শুধু মাথা ছুঁইয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন ম্যাক অ্যালিস্টার। বিশ্বকাপে সার্বিকভাবে এটা মেসির ১০ নম্বর অ্যাসিস্ট। কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনাকে অ্যাসিস্টের সংখ্যায় টপকে গেলেন তিনি। কিন্তু ওই গোলের পর লা অলবেসেলস্ত কেমন যেন মিইয়ে পড়ল। বোঝা যাচ্ছিল পর পর ম্যাচ খেলার ক্লান্তি নীল-সাদা ব্রিগেডের ফুটবলারদের উপর চেপে বসেছে। সেই সুযোগে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে সুইজারল্যান্ড। বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি করে তাঁরা। প্রথমার্ধে সুইজারল্যান্ড যে সমতা ফেরাতে পারল না-সেটার জন্য ধন্যবাদ দিতে হয় গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজকে। তিনি গোটা দুয়েক দুর্দান্ত সেভ না করলে চাপে পড়ে যেত লিওনেল স্কালোনির দল। বিশেষ করে ৪১ মিনিটে কার্যত একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে যেভাবে নিজেকে ছুড়ে দিয়ে দলকে রক্ষা করলেন দিবু সেটা প্রশংসনীয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও বেশ দাপট ছিল সেই সুইসদেরই। এবারও বার কয়েক কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হল দিবুকে। প্রতিবার তিনি চিনের প্রাচীরের মতো দলকে রক্ষা করলেন। কিন্তু সুইস আক্রমণ যেন বাড়তেই থাকল। শেষে ৬৭ মিনিটে অনবদ্য টিম গোলে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে নলেন সুইজারল্যান্ডের এনডয়ে। সেসময় মনে হচ্ছিল খানিকটা যেন অ্যাডভান্টেজে রয়েছে সুইসরাই। কিন্তু ওই যে ভাগ্য বরাবর সহায়তা করেছে আর্জেন্টিনাকে। এদিনও করল। ৭২ মিনিটে ডাইভ দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পর লাল কার্ড দেখলেন সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো। ১০ জনে নেমে গেলেন গ্রানিত জাকারা। শেষের দিকে ১০ জনের লড়াই। তাতেই তাঁরা ম্যাচ টানলেন অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও সেভাবে ১০ জনের সুইস ডিফেন্সকে খুব চাপে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। একটা সময় মনে হচ্ছিল এ ম্যাচের ভাগ্য বুঝি নির্ধারিত হবে পেনাল্টিতে। ঠিক তখনই ম্যাজিক মোমেন্ট আলভারেজের। বক্সের বাইরে থেকে অবিশ্বাস্য গোল করে মেসিদের জয়ের সরণিতে এনে দিলেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ফরওয়ার্ড। পরে অবশ্য আরও একটি গোল আসে নীল-সাদা ব্রিগেডের জন্য। এবার লটারো মার্টিনেজের পা থেকে। তবে ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে জিতে শেষ চারে মেসিরা।
এল এম টেনের দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন এখনও জীবিত। তবে সেমিতে ইংল্যান্ডের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে তাঁদের।