• বুম্বাদার ছবিতে অভিনয় করলাম, তবু হাতে কাজ নেই: বিমল গিরি
    এই সময় | ১২ জুলাই ২০২৬
  • পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে কলকাতার দূরত্ব মেরেকেটে ২০০ কিলোমিটার। সেই দূরত্ব অতিক্রম করে টলিউডে জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না। ব্যর্থ হয়েছেন, তবু হাল ছাড়েননি। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘অনেকদিন পর’ নিঃসন্দেহে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় ব্রেক। ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা কি খানিকটা সহজ হলো? এই সময় অনলাইনের মুখোমুখি অভিনেতা বিমল গিরি।

    এই সময় অনলাইন: মেদিনীপুরপুর থেকে টালিগঞ্জ, পৌঁছলেন কী ভাবে?

    বিমল গিরি: সে এক বিশাল জার্নি। আমার বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের কুমারদা গ্রামে। ওখানেই বড় হয়ে ওঠা। হায়ার সেকেন্ডারি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলেই পড়াশোনা। গ্র্যাজুয়েশন করতে প্রথম কলকাতায় আসা। সুরেন্দ্রনাথে ইংলিশ অনার্স নিয়ে ভর্তি হই। সেকেন্ড ইয়ার থেকে নাটকের প্রতি একটা আগ্রহ তৈরি হয়। থিয়েটার গ্রুপ জয়েন করি। কিন্তু তখনও ভাবিনি এটাই আমার পেশা হয়ে যাবে। ভেবেছিলাম চাকরি-বাকরি করব। নিম্ন-মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলেমেয়েদের যেমন ভাবনা থাকে আর কী!

    এই সময় অনলাইন: ‘স্বপ্নসন্ধানী’র সঙ্গে যুক্ত হলেন কী ভাবে?

    বিমল: কলকাতায় এসে প্রথম দিকে আর্মহার্স্ট স্ট্রিটের একটা মেসে থাকতাম। পরে যাদবপুরের দিকে চলে যাই। ওই পাড়ায় আমার এক বন্ধু ছিল। ও নিজেও নানা অনুষ্ঠান করত। সেই বন্ধুই আমাকে একদিন বাবানদার (কৌশিক সেন) ফোন নম্বর দিয়েছিল। আমি ফোন করে অভিনয় করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলাম। বাবানদা আমায় তখন দলে ডাকেন। সেই সময় দলের ফেস্টিভ্যালের জন্য ‘আন্তিগোনে’ তৈরি হচ্ছিল। সেই নাটকে একটা পার্ট করি। থিয়েটার করা শুরু হয় তখন থেকেই।

    এই সময় অনলাইন: শুনেছি আপনার বাবা একজন যাত্রাশিল্পী...

    বিমল: হ্যাঁ, আমার দাদুও যাত্রা করতেন। বাবা খুবই যাত্রাপ্রিয় মানুষ ছিলেন। অভিনয়ের প্রতিও বাবার একটা ঝোঁক ছিল। ফলে আমি কলকাতায় এসে যখন থিয়েটার করা শুরু করলাম, বাড়ি থেকে কেউই আপত্তি করেনি। বাবা-মা কোনও বিষয়েই কখনও জোর করেননি। থিয়েটার করলে যে পেট চলবে না, সেটা জানতাম। মাসে যে একটা থোক টাকা হাতে আসবে না, সেটা জেনেই থিয়েটার করতে গিয়েছিলাম। সত্যি কথা বলতে কী, সেই সময়ে বাড়ির আর্থিক কোনও দায়িত্ব নিতে হতো না। সেটা একটা বড় সাপোর্ট।

    এই সময় অনলাইন: চাকরি নয়, অভিনয়কে পেশা হিসাবে নেবেন বলে মনস্থির করলেন কখন?

    বিমল: ডিসট্যান্স লার্নিং কোর্সে স্নাতকোত্তরে যখন রবীন্দ্রভারতীতে ভর্তি হই, ততদিনে নাটক ছাড়া আর অন্য কোনও কিছু নিয়ে ভাবিনি। চাকরির পরীক্ষা দিইনি। চাকরি করব বলে ভাবিওনি। তা ছাড়া অভিনয় আর চাকরি একসঙ্গে করা মুশকিল। তাই ঠিক করি যে, অভিনয়টাই করব। এখান থেকেই রোজগার করতে হবে। ধীরে ধীরে পড়াশোনা পুরো বন্ধ হয়ে গেল। অভিনয়েই নিজেকে সঁপে দিলাম।

    এই সময় অনলাইন: পর্দায় প্রথম সুযোগ পেলেন কী ভাবে?

    বিমল: প্রথম দিকে সিরিয়ালে ছোটখাটো চরিত্র করতাম। কিছু টাকা হলেও তো আসত। তাই কাজগুলো নিতাম, ফেরাতাম না। তবে মিডিয়ামটা একেবারে নতুন ছিল। টেকনিক্যাল অনেক বিষয় জানতাম না। তার পরে অনেক বছর কোনও কাজ ছিল না আমার কাছে। থিয়েটারটাই মন দিয়ে করতাম। তার পরে কয়েকটা শর্ট ফিল্ম করলাম। তথাগত ঘোষ বলে একজন পরিচালক আছেন। তিনি শুধুই শর্টফিল্ম তৈরি করেন। দেশ-বিদেশের ফেস্টিভ্যালে ওঁর পরিচালিত শর্ট ফিল্ম দেখানো হয়। ওঁর সঙ্গে কাজ করার ফলে আমারও একটু পরিচিত বাড়ে। ওটাও কেরিয়ারের একটা নতুন মোড়। একটা শর্ট ফিল্মের স্ক্রিনিংয়েই তথাগত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা। তখনই ‘পারিয়া’র জন্য আমায় কাস্ট করেন তথাদা (ছবিটি মুক্তি পায় ২০২৪-এ)। তার পরে তো বেশ কিছু সিরিজ়ে কাজ করলাম: ‘গোঁজামিল’ (২০২৪), ‘কালীপটকা’ (২০২৬) ও ‘ঠাকুমার ঝুলি’ (২০২৬)। আপাতত এই চলছে।

    এই সময় অনলাইন: ‘অনেকদিন পর’ (সৌরভ পালোধী পরিচালিত ছবি, যা মুক্তি পেয়েছে ২০২৬-র ২৬ জুন) জীবন কতটা বদলে দিল?

    বিমল: জীবন একই আছে। তবে কেরিয়ারের ক্ষেত্রে এই ছবি আমার কাছে নিঃসন্দেহে বড় ব্রেক। সৌরভ পালোধী আমার কাজ আগে দেখেছিলেন। একদিন মেসেঞ্জারে টেক্সট করে সৌরভদা আমার ফোন নম্বর চান। তার পরে অডিশন দিই। অডিশনের ভিডিয়ো দেখে সৌরভদা কিছু পরিবর্তনের সাজেশন দিল। সেগুলো করে পাঠালাম। তার পরে বেশ অনেকদিন আর যোগাযোগ করেনি। আমিও ধরে নিয়েছিলাম যে, এই কাজটা আমার ভাগ্যে নেই। একদিন সকালে কাগজ দেখে জানতে পারলাম, কাজটা করছি। আমারই এক বন্ধু কাগজের ওই অংশটুকুর ছবি তুলে পাঠাল। তার পরে তো কাজটা হলো। ভালো ফিডব্যাক পেয়েছি। গ্রাম থেকে বাবা-মাকে শহরে এনে ছবিটা দেখিয়েছি। তাঁরাও খুব খুশি।

    এই সময় অনলাইন: প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আপনার অভিনয় দেখে কী বললেন?

    বিমল: খুবই প্রশংসা করেছেন। শুটিং শুরু হওয়ার আগে গিয়েছিলাম ‘উৎসব’-এ। কথা হয়েছে। অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। এমন একজন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারা নিঃন্দেহে জীবনের অন্যতম অ্যাচিভমেন্ট। ছোট থেকে টিভিতে বুম্বাদার ছবি দেখে বড় হয়েছি। মেদিনীপুরে কতবার বুম্বাদা অনুষ্ঠান করতে গিয়েছেন। সেই মানুষটার বাড়িতে গিয়েছি, গল্প করেছি... এটা জানার পরে আমার গ্রামের সকলেই ভীষণ খুশি।এই সময়

    অনলাইন: প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রযোজিত ছবিতে অভিনয়ের পরে কাজের ব্যস্ততা এখন কেমন?

    বিমল: সত্যি কথা বলতে কী, এখন হাতে তেমন কোনও কাজ নেই। নতুন কোনও সিরিজ় বা সিনেমার কাজের কথাও হয়নি। কিছু কাজ রেডি হচ্ছে। সেগুলি হয়তো রিলিজ় করবে। অনেকেই ভাবছেন হয়তো হাতে অনেক কাজ, তা আসলে নয়।
  • Link to this news (এই সময়)