সংসারে আর্থিক অনটন, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত, অস্কার মনোনীত ছবির অভিনেতা এখন অটেচালক?
এই সময় | ১২ জুলাই ২০২৬
কিছু স্বপ্ন কারও কারও জীবনে অধরাই থেকে যায়। তেমনই একরাশ ইচ্ছে বুকে নিয়েই মুম্বইয়ে পা রেখেছিলেন শফীক সৈয়দ। যে অভিনেতার জীবন এখন এতটাই দুর্বিষহ যে, নিজের ও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি অটোচালক। ট্রেন ধরে মুম্বইয়ে পা রাখা ছেলেটা এখন কেমন আছেন জানেন?
অস্কার-মনোনীত চলচ্চিত্র ‘সলাম বোম্বে’ (১৯৮৮)-এর প্রধান শিশুশিল্পী শফীক সৈয়দ এখন নিজের ও তাঁর পরিবারের জন্য বেঙ্গালুরুর রাস্তায় অটো চালাচ্ছেন। এই অভিনেতা, একটা সময়ে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী) পেয়েছিলেন। তিনি এখন লোকচক্ষুর আড়ালে এবং চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
শফীক সৈয়দ বেঙ্গালুরুর বস্তি থেকে পালিয়ে মুম্বই গিয়ে চার্চগেট স্টেশনে থাকতেন একটা সময়ে। পরিচালক মীরা নায়ার সেখানেই তাঁকে খুঁজে পান এবং তাঁর ছবিতে প্রধান চরিত্রে সুযোগ দেন। যে চরিত্রটি শফীকের জীবন বদলে দিয়েছিল। তাঁর অভিনয় মুগ্ধ করেছিল দর্শককে।
এই চলচ্চিত্রটি অস্কারের (শ্রেষ্ঠ বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র) জন্য মনোনীত হয়েছিল। শফীক তাঁর অসাধারণ অভিনয় দিয়ে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মন জয় করেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও তিনি বলিউডে আর তেমন কাজ পান নি।
শফীক খবরের কাগজের কাটিং নিয়ে বিভিন্ন স্টুডিয়োয় গিয়েছেন। কিন্তু কেবলই রিজেক্ট হয়েছেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ‘পতঙ্গ’ ছবিতে অভিনয় করেন। যা ছিল তাঁর শেষ ছবি। মুম্বইয়ে কাজ না পেয়ে তিনি বেঙ্গালুরুতে ফিরে আসেন। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে থাকায়, তিনি একটি অটো চালাতে শুরু করেন এবং প্রথম দিকে দিনে মাত্র ১৫০ টাকা আয় করতেন।
চরম আর্থিক সঙ্কট এবং ‘নায়ক থেকে খলনায়ক’-এ পরিণত হওয়া নিয়ে সামাজিক উপহাসে গভীর হতাশায় ডুবে যান শফীক। দু’বার আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছিলেন। অটো চালানোর পাশাপাশি কিছু বাড়তি আয়ের জন্য তিনি কন্নড় সিরিয়ালে সহকারী ক্যামেরাম্যান হিসেবেও বেশ কিছু কাজ করেছিলেন।