• আমজনতার এতটুকু বাসা সরছে নাগালের বাইরে
    এই সময় | ১২ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: ফ্ল্যাটের দামে ক্রমাগত বৃদ্ধি, সঙ্গে ‘দোসর’ ডেভেলপারদের একাংশের মধ্যে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট তৈরির প্রবণতা, জোড়া ফলায় দেশজুড়ে ক্রমশ ফিকে হচ্ছে আমজনতার সাধ্যের মধ্যে এক টুকরো বাড়ির স্বপ্ন। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া রিয়েল এস্টেট: রেসিডেন্সিয়াল অ্যান্ড অফিস (জানুয়ারি-জুন ২০২৬)’ শীর্ষক রিপোর্টে এমনটাই দাবি করেছেন নাইট ফ্র্যাঙ্ক ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। তাঁরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুনে দেশের আট শহরে ১,৭১,৪৭১টি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে। যা ২০২৫-এর জানুয়ারি-জুনের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। কিন্তু ৫০ লক্ষ টাকার নীচে দাম রয়েছে, এমন ফ্ল্যাট বিক্রির সংখ্যা মোট বিক্রির মাত্র ১৯ শতাংশে এসে ঠেকেছে। পাশাপাশি, ১ কোটি টাকারও বেশি দাম রয়েছে (প্রিমিয়াম ক্যাটিগরি), এমন ধরনের ফ্ল্যাট বিক্রির পরিমাণ পৌঁছেছে মোট বিক্রির ৫৪ শতাংশে। যা ২০২৫-এর জানুয়ারি-জুনে ছিল মোট বিক্রির ৪৯ শতাংশ।

    ওই রিপোর্টে দাবি, কোভিড অতিমারীর পর থেকেই দেশজুড়ে আবাসন শিল্পে গতি এসেছে। যার জন্য গত কয়েক বছরে ফ্ল্যাট কেনার প্রবণতা উত্তরোত্তর বেড়েছে। কিন্তু স্বল্প মূল্যের ফ্ল্যাটের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমেছে। যার জেরে আমজনতার কাছে ফ্ল্যাট কেনা অনেকটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

    পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুনে দেশের আট শহরে বিপুল সংখ্যক ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে। তা হলে এই ফ্ল্যাটগুলি কারা কিনছেন? ওই রিপোর্টে দাবি, বছরের প্রথমার্ধে সামগ্রিক ভাবে বিক্রির পরিমাণ রেকর্ডের কাছে পৌঁছলেও তার মূল চালিকাশক্তি ছিলেন হায়ার ইনকাম স্কেল-এর মধ্যে পড়েন, এমন ব্যক্তিরা।

    এ বিষয়ে নাইট ফ্র্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর শিশির বৈজল জানিয়েছেন, ক্রেতাদের একাংশ ফ্ল্যাটের গুণমান, ফ্ল্যাট ডেভেলপ হওয়া এলাকার পরিকাঠামো, ডেভেলপার-এর কাজ এবং দীর্ঘমেয়াদে ফ্ল্যাটের কী ভ্যালুয়েশন হতে পারে, সেইসব বিষয়ে চিন্তা করেই পা ফেলছেন। ফলে তাঁরা প্রাথমিক ভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের ফ্ল্যাটের তুলনায় প্রিমিয়াম ফ্ল্যাট কেনার দিকেই জোর দিচ্ছেন।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুনে যে সব ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে, সেগুলির বড় অংশ এক সময়ে মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যেই ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশজুড়ে আবাসনের ব্যাপক হারে দাম বৃদ্ধির চাপে তার একাংশ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে।

    ওই রিপোর্টে আরও দাবি, গত জানুয়ারি-জুনে কলকাতায় ফ্ল্যাট বিক্রির পরিমাণ বার্ষিক ৩ শতাংশ বাড়লেও তৈরির সংখ্যা কমেছে বার্ষিক ৫ শতাংশ। শুধুমাত্র নগর তিলোত্তমা নয়, চারমিনারের শহর হায়দরাবাদেও এমন প্রবণতা দেখা গিয়েছে। দক্ষিণের ওই শহরে জানুয়ারি-জুনে ফ্ল্যাট বিক্রি বার্ষিক ১ শতাংশ বাড়লেও তৈরির সংখ্যা কমেছে বার্ষিক ২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অবিক্রিত ফ্ল্যাটের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই ডেভেলপার–দের একাংশ তৈরির সংখ্যা কখনও কখনও কমান। তবে ফ্ল্যাট বুকিং-এর হার বাড়লেই তাঁরা নতুন প্রজেক্ট শুরু করে দেন।
  • Link to this news (এই সময়)