• সিনেমা হলে বিশ্বকাপের উন্মাদনা, ব্রাজ়িল-আর্জেন্তিনার ম্যাচ হাউসফুল, বাড়ছে ব্যবসার পরিধিও
    এই সময় | ১২ জুলাই ২০২৬
  • বিশ্বকাপ মানেই এতদিন টিভির সামনে পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা। কিন্তু সেই চেনা ছবি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের এক বড় অংশ পা রাখছেন সিনেমা হলে। বিশাল পর্দা, স্টেডিয়ামের মতো পরিবেশ, চারপাশে সমর্থকের উচ্ছ্বাস— সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতাকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলি।

    মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছে পিভিআর আইনক্স (PVR INOX) এবং সিনেপলিস ইন্ডিয়া (Cinepolis India)। সিনেমার পাশাপাশি লাইভ ফুটবল ম্যাচ দেখানোর উদ্যোগে দর্শকদের সাড়া এতটাই ভালো, বিশ্বকাপ এখন তাদের কাছে ব্যবসা বৃদ্ধির বড় সুযোগ হয়ে উঠেছে। ফুটবলের দুই মহাশক্তি ব্রাজ়িল ও আর্জেন্তিনার ম্যাচে মাল্টিপ্লেক্সে ভিড় হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বহু প্রেক্ষাগৃহে এই ম্যাচগুলিতে প্রায় ১০০ শতাংশ আসন ভর্তি হয়েছে।

    এ পর্যন্ত PVR INOX বিশ্বকাপের ১৬টি ম্যাচ দেখিয়েছে। নক-আউট পর্ব ও ফাইনাল-সহ আরও ৯টি ম্যাচ দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। অন্যদিকে Cinepolis India ইতিমধ্যেই ১৪টি ম্যাচ প্রদর্শন করেছে। নক-আউট পর্বে দর্শকদের চাহিদা অনুযায়ী আরও ম্যাচ দেখাবে এই সংস্থা।

    PVR INOX-এর CEO (Revenue & Operations) গৌতম দত্ত এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এ বছরে আরও বেশি দর্শক আসছেন। গড়ে ৬০ শতাংশেরও বেশি আসন ভর্তি হয়েছে। ব্রাজ়িল ও আর্জেন্তিনার মতো বড় দলের ম্যাচে সেই সংখ্যা গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।’

    Cinepolis India-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর দেবাং সম্পতও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘সবচেয়ে বেশি দর্শক এসেছে ব্রাজ়িল ও আর্জেন্তিনার ম্যাচে। কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে প্রায় সব আসনই ভর্তি ছিল। তবে কম পরিচিত দলের ম্যাচে দর্শক তুলনামূলক কম হওয়াটা স্বাভাবিক। তাই আমরা প্রতিটি ম্যাচ দেখানোর বদলে দর্শকদের চাহিদা অনুযায়ী বেছে বেছে ম্যাচ প্রদর্শন করি।’

    মুম্বই, দিল্লি-এনসিআর, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, পুনে, কলকাতা, কোচি, কোঝিকোড় এবং তিরুবনন্তপুরম-সহ দেশের একাধিক শহরে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখানো হচ্ছে। জনপ্রিয় নক-আউট ম্যাচগুলির টিকিটের দাম ৩৪০ টাকা থেকে ৭২০ টাকা পর্যন্ত।

    শুধু ফুটবলপ্রেমীরাই নন, পরিবার-সহ সাধারণ দর্শকরাও এখন সিনেমা হলে বিশ্বকাপ ম্যাচের উন্মাদনার সাক্ষী থাকতে চাইছেন। এ নিয়ে গৌতম দত্ত বলেছেন, ‘সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শুধু ফুটবল ফ্যান ক্লাব নয়, তরুণ দর্শক থেকে শুরু করে পরিবার— সব ধরনের মানুষই এই অভিজ্ঞতার অংশ হতে চাইছেন।’

    তবে কোন শহরে কত সংখ্যক শো হবে, তা আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দেবাং সম্পত। তিনি বলেছেন, ‘দেশের সব জায়গায় ফুটবলের জনপ্রিয়তা একই রকমের নয়। তাই কোন শহরে কতগুলি স্ক্রিন বা শো থাকবে, তা সম্পূর্ণ দর্শকদের চাহিদার উপর নির্ভর করছে।’

    বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচই ভারতীয় সময় রাত বা গভীর রাতে হচ্ছে। তবুও দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি বলেই জানাচ্ছেন দুই সংস্থার কর্তারা। এ নিয়ে দেবাং সম্পত বলেছেন, ‘ভারতে বহু বছর ধরেই গভীর রাতে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার সংস্কৃতি রয়েছে। বিশেষ করে বড় ম্যাচ হলে দর্শকরা রাত জেগে সিনেমা হলে আসতেও প্রস্তুত।’

    শুধু সিনেমা নয়, বিনোদনের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে মাল্টিপ্লেক্স

    বিশ্বকাপের সাফল্য শুধু টিকিট বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ নয়। মাল্টিপ্লেক্স সংস্থাগুলির মতে, এর মাধ্যমে সিনেমা হলের ব্যবসার নতুন দিকও স্পষ্ট হচ্ছে।

    বর্তমানে লাইভ স্পোর্টস, কনসার্ট, পুরোনো জনপ্রিয় সিনেমার পুনঃপ্রদর্শন এবং লাইভ স্টেজ পারফরম্যান্স মিলিয়ে বিকল্প কনটেন্ট থেকে দুই সংস্থার মোট আয়ের প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ আসছে। আগামী দিনে এই অংশ আরও বাড়বে বলেই আশা।

    এ বিষয়ে গৌতম দত্ত বলেছেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপের মতো লাইভ ক্রীড়া ইভেন্ট শুধু টিকিট বিক্রিই বাড়ায় না। খাবার ও পানীয় বিক্রিও বাড়ে।’ দেবাং বলেছেন, ‘ক্রিকেট বিশ্বকাপেও আমরা অসাধারণ সাড়া পেয়েছিলাম। এ বার ফুটবলেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। দর্শকরা এখন শুধু সিনেমা নয়, আরও নানা ধরনের বিনোদনের জন্যও সিনেমা হলে আসতে চান। এই প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে। আমাদের কাছে সিনেমার পর্দা বিনোদন জগতের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলির একটি। তাই সেখানে শুধু সিনেমা নয়, আরও নানা ধরনের কনটেন্ট নিয়ে আসাই ভবিষ্যতের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

    বিশ্বকাপের উন্মাদনা তাই শুধু মাঠে বা টেলিভিশনের পর্দায় সীমাবদ্ধ নেই। ধীরে ধীরে ভারতের মাল্টিপ্লেক্সগুলিও হয়ে উঠছে ফুটবল উৎসবের নতুন ঠিকানা।
  • Link to this news (এই সময়)