দেবদূতের মত ছুটে এলেন আরপিএফ! খড়গপুরে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা প্রবীণ যাত্রীর
News18 বাংলা | ১২ জুলাই ২০২৬
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা বোধহয় একেই বলে! চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা পিছলে প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রেনের মাঝখানের বিপজ্জনক ফাঁকে প্রায় পড়েই যাচ্ছিলেন এক প্রবীণ যাত্রী। ঠিক সেই মুহূর্তেই দেবদূতের মত ছুটে এলেন কর্তব্যরত এক আরপিএফ কনস্টেবল। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে চোখের পলকে ওই যাত্রীকে টেনে বের করে আনলেন তিনি। খড়গপুর রেলওয়ে স্টেশনের এই হাড়হিম করা ঘটনার দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছিলেন উপস্থিত যাত্রীরা। আরপিএফ কর্মীর তৎপরতায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেন ৬১ বছর বয়সি ওই বৃদ্ধ।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিট নাগাদ খড়গপুর স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ায় ১২৬৬৩ হাওড়া–তিরুচিরাপল্লি এক্সপ্রেস। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৭টা ৩৬ মিনিট নাগাদ ট্রেনটি ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্ম ছাড়তে শুরু করে। ঠিক সেই সময়ই ঘটে বিপত্তি। ট্রেন ছাড়তে দেখে তাড়াহুড়ো করে পিছনের একটি সাধারণ কামরায় (জেনারেল কোচ) ওঠার চেষ্টা করেন ওই প্রবীণ। কিন্তু ট্রেনের গতি বাড়তে থাকায় তিনি হঠাৎই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পা পিছলে প্ল্যাটফর্মে পড়ে যান এবং চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে ঘষটে বেশ কিছুটা দূরে তাঁকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে ট্রেনটি। যে কোনও মুহূর্তে তিনি ট্রেনের চাকার তলায় চলে যেতে পারতেন।
এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য চোখে পড়তেই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেননি প্ল্যাটফর্মে পাহারায় থাকা আরপিএফ কনস্টেবল কে.কে. যাদব। বিদ্যুৎগতিতে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং চলন্ত ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মাঝখানের অংশ থেকে ওই যাত্রীকে টেনে নিরাপদে সরিয়ে আনেন। রেল পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ওই যাত্রীর নাম দামন কৈবর্ত। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়া জেলার রঘুডিহ এলাকায়।
আরপিএফ কনস্টেবল কে.কে. যাদবের এই অসীম সাহসিকতা এবং উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসায় পঞ্চমুখ রেল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীরা। খড়গপুর ডিভিশনের পক্ষ থেকে তাঁর এই দায়িত্ববোধকে বিশেষ কুর্নিশ জানান হয়েছে। সেই সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে যাত্রীদের কাছে ফের আবেদন জানানো হয়েছে, তাড়াহুড়ো করে কখনওই যেন কেউ চলন্ত ট্রেনে ওঠা বা নামার চেষ্টা না করেন। ট্রেন ধরতে না পারলে পরের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করা উচিত, কারণ সামান্য তাড়াহুড়ো বড়সড় বিপদের কারণ হতে পারে।