‘নারী পাচারকারী জেলা’-র নাম বাতলে দিলেন অধীর চৌধুরী
আজকাল | ১২ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন এবং তারপর গণপিটুনিতে বছর পঁয়ত্রিশের ইন্দ্রজিৎ মন্ডল নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই হুঁশিয়ারির পর প্রায় রোজই এই মামলায় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্যদের হাতে গ্রেপ্তার হচ্ছেন একের পর এক ব্যক্তি।
ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী বেআইনি জমায়েত, অশান্তি বাধানো, সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা দেওয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ নাগরিককে আঘাত করা, গণপ্রহারে কাউকে হত্যার মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ জন ব্যক্তি সিটের সদস্যদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
রবিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী বারুইপুর কাণ্ডে আরও বড় তদন্তের দাবি তুললেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন,"গোটা ২৪ পরগনা 'বেল্ট' এবং ওই এলাকা নারী পাচারের ঠেক। 'নারী পাচারকারী জেলা' হিসেবে একসময় ওই এলাকার কুখ্যাতি ছিল। নারী, মাদক পাচারের জাল ওখানে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে সেটার সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমি চাই অপরাধীরা গ্রেপ্তার হোক কিন্তু অপরাধীর নামে যেন সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার না হয়।"
অন্যদিকে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গ ছেড়ে বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের 'ঋতব্রত তৃণমূলে' যোগদান প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন," সাপুড়ের সাপের হাতেই মৃত্যু হয়। অপরাধের জননীর অপরাধীদের হাতে বিপদ বাড়ছে।"
তবে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী 'বিদ্রোহী' তৃণমূল সাংসদ বিধায়কদেরও তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন,"সবাই ইডি, সিবিআই, পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য ওখানে যাচ্ছে। যতদিন তৃণমূলে থাকছে তাঁদেরকে ডিম ছোড়া হচ্ছে কিন্তু বিদ্রোহীতে গেলে তাঁদের ওমলেট খাওয়ানো হচ্ছে। বকলমে বিজেপির হাত থেকে বাঁচার আশ্রয়স্থল করে নিয়েছে।"
অন্যদিকে আগামীকাল থেকে রাজ্য জুড়ে লাঘু হতে চলা 'গুন্ডা দমন আইন' প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী ফের একবার বলেন," এই আইন বাংলায় চালু হতে দেওয়া হবে না।" তিনি বলেন," গুন্ডা দমন আইন নিয়ে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট হবে। এটি একটি 'ড্রেকোনিয়ান' আইন।"