• ৩ বছর পর প্রতিজ্ঞাপূরণ, মমতাকে গদি থেকে সরিয়ে প্রথম চুল কাটলেন কৌস্তভ
    আজ তক | ১২ জুলাই ২০২৬
  • অসম্ভব কাণ্ডটাই ঘটিয়ে দেখালেন আইনজীবী তথা ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। দিনটা ছিল ২০২৩ সালের ৪ মার্চ মধ্যরাতের সেই টানটান উত্তেজনা হয়তো অনেকেরই মনে আছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু ঝাঁঝালো মন্তব্য করার অপরাধে মাঝরাতে পুলিশ গিয়ে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র কৌস্তভ বাগচীকে। ঘটনার সূত্রপাত ওই দিন থেকেই।

    সেই দিনই ব্যাঙ্কশাল আদালত থেকে জামিন পেয়ে মাথা নেড়া করে তিনি হুঙ্কার দিয়েছিলেন, “যতক্ষণ না মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরাচ্ছি, ওনাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করতে পারছি, ততদিন মাথায় চুল রাখব না!” আর বাস্তবিকই সেই কাণ্ড করে দেখিয়েছেন তিনি। 

    ২০২৩ সালের ৪ মার্চের পর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। রাজনীতিতে দলবদল হয়েছে, সমীকরণ বদলেছে। কেটে গিয়েছে দীর্ঘ তিন-তিনটে বছর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক মহাবর্তন ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় পরাজিত হয়েছেন। আর তৃণমূল সরংকারের পতনের পরেই রূপ নিল কৌস্তভের দীর্ঘদিনের প্রতিজ্ঞা। আর সেই প্রতিজ্ঞা পূরণের এক অদ্ভুত, নজরকাড়া এবং যাকে বলে খাঁটি ‘বাঙালিয়ানা’ স্টাইলের উদযাপন দেখা গেল শনিবার, ১১ জুলাই।

    কোনও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাক্সারি সেলুন নয়, কোনও পাঁচতারা হোটেলের কনফারেন্স রুম নয়। কৌস্তভ বাগচী বেছে নিলেন একেবারে জনতার মাঝখানটা। ব্যারাকপুর বড়পোল এলাকায় ভরদুপুরে রাস্তার উপর একটা সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ার পেতে বসে পড়লেন তিনি। চারদিকে তখন শয়ে শয়ে মানুষের ভিড়, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আর স্লোগান। সেখানেই নাপিতের কাঁচি চলল তাঁর মাথায়। তিন বছর পর প্রথমবার নিজের চুল কাটালেন তিনি, তাও আবার প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে!

    চুল কাটানোর পর স্বভাবসিদ্ধ চওড়া হাসিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ব্যারাকপুরের এই দাপুটে বিধায়ক স্পষ্ট ভাষায় বললেন, “আমি ব্যাঙ্কশাল কোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মাথা নেড়া করে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। আজ আমার সেই জেদ, সেই লড়াই সার্থক হয়েছে। তাই আজ আমার প্রতিজ্ঞা পূরণ হওয়ার আনন্দে এই প্রকাশ্য রাস্তায় বসেই চুল কাটালাম।”

    ---দীপক দেবনাথ
     


     
  • Link to this news (আজ তক)