'চিকিৎসার নামে মানুষের পা বাদ দিয়ে দিল', সেবাশ্রয় নিয়ে অভিষেককে নিশানা ঋতব্রতর
আজ তক | ১৩ জুলাই ২০২৬
Ritabrata Banerjee: দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাসের ভুল চিকিৎসায় পা বাদ যাওয়ার ঘটনা নিয়ে এবার মুখ খুলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। পাশাপাশি নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। 'সেবাশ্রয়' প্রকল্পের আর্থিক উৎস নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি।
সম্প্রতি সেবাশ্রয় নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা, ৫৮ বছরের মালতী বিশ্বাস। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাঁটুর অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে তিনি মহেশতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসদীয় এলাকার 'সেবাশ্রয়' ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানে রেজিস্ট্রেশন নম্বরহীন এবং সইহীন প্রেসক্রিপশনে তাঁকে ভুল ওষুধ দেওয়া হয়। এর পর পরিস্থিতি আরও বিগড়ে গেলে চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তাঁর ডান পাটি চিরতরে বাদ দিয়ে দিতে হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর স্বামী।
‘গান পয়েন্টে ক্যাম্প, ১৫ বছর ধরে থ্রেট কালচার চলেছে’
রবিবার এই ইস্যুতে আগের সরকারের তুলোধোনা করেন বিরোধী দলনেতা। ক্ষোভ উগরে দিয়ে ঋতব্রত বলেন, 'সেবাশ্রয়ের এই বিপুল টাকা কোথা থেকে এল, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। একজন বাটপাড়ের সস্তা আত্মপ্রচারের জন্য এই সেবাশ্রয় নামক প্রহসন তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে হোমিওপ্যাথি ডাক্তার কিংবা যারা এখনও ডাক্তারি পাসই করেনি, তাদের এনে ‘গান পয়েন্ট’-এ জোর করে ক্যাম্প করানো হতো। এই থ্রেট কালচার বিগত ১৫ বছর ধরে চালিয়েছে এই প্রাইভেট কোম্পানি। আর সেই কুৎসিত থ্রেট কালচারের শিকার খোদ রাজ্যের মন্ত্রীরাও ছিলেন।' তীব্র কটাক্ষের সুরে তিনি আরও বলেন, “একটি গোটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিই চলছে চিটিংবাজির উপর। সেবাশ্রয়ে সেবা দিতে গিয়েই তো আপনারা একজন অসহায় মহিলার পা বাদ দিয়ে দিলেন! আমরা এই গুরুতর বিষয়টি নিয়ে বিধানসভাতেও সরব হব।'
'কালো টাকা সাদা করার খেল... হিটলারের সার্কেল অফ ইভিল'
সাংবাদিক বৈঠকে শুধু চিকিৎসার গাফিলতিই নয়, সেবাশ্রয়ের আড়ালে বিপুল আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগও তোলেন ঋতব্রত। তাঁর দাবি, এই শিবিরের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার খেলাও থাকতে পারে। বিরোধী দলনেতার কথায়, 'হিটলারের 'সার্কেল অফ ইভিল'-এর মতো এই বাটপারের আশেপাশেও একঝাঁক মণি-মুক্তা ঘুরে বেড়াত। শুনছি এঁদের কেউ নাকি সমাজসেবা করেই আস্ত পাহাড় কিনে ফেলেছেন! কারও কারও বাড়ি থেকে ১০০ কোটি টাকারও বেশি ওষুধ উদ্ধার হয়েছে।' তিনি বলেন, 'শুধু জাহাঙ্গিরের ৭০টা প্রপার্টি ধরলে হবে না। তার সঙ্গে কৈলাস মিত্র, মিঠুন দে কিংবা সুমিত মিত্র পর্যন্ত যোগসূত্র খুঁজে বের করতে হবে। দেখতে হবে এর সঙ্গে ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাবের কোনও আর্থিক লেনদেনের যোগ আছে কিনা। স্বাভাবিকভাবেই একজন প্রার্থীর নাম বারবার উঠে আসছে। আমি দিল্লি যাওয়ার আগে এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সাংবাদিকদের হাতে দিয়ে যাব।'
‘সাহস থাকলে ভয়েস স্যাম্পেল দিন, ডিম খাওয়ার অজুহাত ছাড়ুন’
ঋতব্রত বলেন, ধমকানোর দিন এবার শেষ হয়ে গিয়েছে। কেউ কারও চাকর নয়। বলেন, 'আদালত তো স্পষ্ট বলেছে, সাহস করে একটু ভয়েস স্যাম্পেলটা দিন। কথায় কথায় পচায় ডিম খাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে আর কতদিন পালাবেন? মানুষের এবার সব জানা দরকার। 'সততা’' শব্দটি যদি নীল কালি দিয়ে লেখা হয়, আর তারপর সেটি যদি মাইক্রোস্কোপের নিচে ফেলা যায়, তবে দেখা যাবে ওই 'স'-এর ওপর শুধু কয়লা, বালি আর গরু, কত কিছু লেখা রয়েছে।'