অপূর্ব সরকার ওরফে ডেভিডের জন্যই মুর্শিদাবাদে শেষ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের সংগঠন৷ রবিবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সবায় এসে এমনই মন্তব্য করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এমন কি, হুমায়ুন কবীরের দল ছাড়ার জন্যও কান্দির প্রাক্তন বিধায়ক অপূর্ব সরকারকেই দায়ী করেছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ৷
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে অপূর্ব সরকারও ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন৷ নব তৃণমূলে বহরমপুরের সাংগঠনিক জেলা সভাপতিরও দায়িত্ব পেয়েছেন কান্দির প্রাক্তন বিধায়ক৷
রবিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এসেছিলেন আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন তিনি বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় লাগোয়া এক অনুষ্ঠান বাড়িতে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা করেন। সেখানেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘একা ডেভিড মুর্শিদাবাদ জেলার সংগঠন শেষ করে দিয়েছে। ওই ডেভিডের জন্য আমাদের হুমায়ুন কবীরকে হারাতে হয়েছে। আবার ইউসুফ পাঠানও বলে ডেভিড মেরা জান খা লিয়া। আরে ইউসুফ পাঠান, এখন তো ডেভিড আভি তো ডেভিড তেরা সাথ চলা গিয়া। জান ক্যায়া তেরা পুরা ক্যারিয়ার খা জায়েগা। কী অদ্ভূত অবস্থা। সব বেইমানের দল।’
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য শুনে নওদার বিধায়ক এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, অনেক দেরিতে হলেও তাহলে বুঝতে পারলেন৷ কল্যাণদাকে ধন্যবাদ৷ যদিও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা কোনও প্রতিক্রিয়া অপূর্ব সরকারের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি৷
অপূর্ব সরকার ওরফে ডেভিডের জন্য হুমায়ুন কবরকে হারাতে হয়েছে। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এসে এমন মন্তব্য করেন তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অপূর্ব সরকার ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যারের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি। ভোটে হেরে যাওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে অপূর্ব সরকার বর্তমানে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এ যোগ দেন এবং জেলাভিত্তিক যে কমিটি ঘোষণা হয়েছে, তাতে বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদে তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
কল্যাণ বলেন, ‘দরকার হলে বারবার আসবো। শুধু আপনারা জাগ্রত থাকুন। আজকের মিটিংয়ে যে ক’জন প্রতিনিধি আপনারা এসেছেন, তাঁরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে নিজেদের এলাকায় তৃণমূলের লোকজনকে ডাকবেন। সভা করবেন। সেই সভায় পাঁচ জন এলো নাকি পঞ্চাশ জন এলো, সংখ্যা কিন্তু বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, তাঁদের নিয়ে বসে সভা করে বোঝানোর কথা। তবেই না আপনারা মানুষকে বোঝাতে পারবেন।’
বিজেপি-কে দুষে কল্যাণ বলেন, ‘বিজেপি যে ভাবে আমাদের ভয় দেখাচ্ছে যে, তৃণমূলপন্থী কাউকে রাখবো না, মমতাপন্থী কাউকে রাখবো না, জেলে ঢুকিয়ে দেব, সব জায়গায় থ্রেট দিচ্ছে। ইস্তফা দিতে হবে বলে পুলিশকে দিয়ে থ্রেট। কত বার জেলে ঢোকাবেন আপনি! কত দিন জেলে ঢোকাবেন! আমিও কিন্তু জেলায় জেলায় মিটিং করছি। আমি ছেলেদের সাহস দেখাচ্ছি।’
কল্যাণ আরও বলেন, ‘এরা তো আগে গদ্দারি করেনি। দলের যখন খারাপ সময় এসেছে, ক্ষমতা থেকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলে গিয়েছে, তখন এরা দলের সঙ্গে গদ্দারি করছে, তাই এখন গদ্দারদের দল থেকে বিতাড়িত করার কথা বলেছি।’