• শিল্প নীতি নিয়ে আগের সরকারকে আক্রমন করলেন তাপস রায়
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রায় আড়াই মাস কেটে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের ঝিমিয়ে পড়া শিল্প ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করাই যে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য, তা স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। পূর্বতন সরকারের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    এদিন শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারের প্রসঙ্গে মন্ত্রী সরাসরি পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে বলেন, ‘আগের সরকার আমাদের জন্য কিছুই রেখে যায়নি। না ছিল সঠিক ল্যান্ড পলিসি, না ল্যান্ড ব্যাংক, আর না কোনও বাস্তবসম্মত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি। উল্টে সমস্ত ইনসেন্টিভ তুলে দিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’ তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলি যখন শিল্প টানতে আকর্ষণীয় ইনসেন্টিভ দিচ্ছে, তখন বাংলায় ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’ বা ব্যবসার সহজ পরিবেশ ছিল না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও চরম অবনতি হয়েছিল। ফলে বহু শিল্পপতি বাংলা ছেড়ে চলে যান। তবে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক সুবিধা এবং মেধার যে প্রাচুর্য রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি বদলানো হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

    শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তাপস রায় বলেন, “আমাদের সরকার সম্পূর্ণভাবে শিল্প-বান্ধব। অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে না পারলে বাংলার মেধাবী তরুণ-তরুণীদের ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হওয়া বা ‘ব্রেন ড্রেন’ আটকানো সম্ভব নয়। মেধা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা সম্পন্ন যুবসমাজকে বাংলাতেই কাজ দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।” একটি বিশেষ শিল্প হাব তৈরির প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যের কোথায় কোথায় জমি অব্যবহৃত অবস্থায় বা জঙ্গল হয়ে পড়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিতকরণের কাজ (ল্যান্ড সার্চ) শুরু হয়েছে।

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পূর্বতন সরকারের আমলের সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় অর্থাৎ ‘জমি নীতি’ নিয়ে বড় আপডেট দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন ল্যান্ড পলিসি বা জমি নীতির ড্রাফট (খসড়া) তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আইনি ও প্রশাসনিক কয়েকটি ধাপ পেরোলেই খুব দ্রুত তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এর পাশাপাশি স্পেশাল ইকোনমিক জোন বা এসইজেড নিয়েও সরকার ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    অন্যদিকে, রাজ্যে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা যে অন্যতম প্রধান শর্ত, তাও মনে করিয়ে দেন মন্ত্রী। বিধানসভায় সদ্য পাস হওয়া ‘গুন্ডা দমন বিল’ প্রসঙ্গে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছেন যে সোমবার থেকেই এই কড়া আইন রাজ্যে কার্যকর হতে চলেছে। এর ফলে রাজ্যে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য কমবে এবং ব্যবসায়ীরা নির্ভয়ে বিনিয়োগ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)