• ১২ ফুটের ত্রিশূল, কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের আদলে গেট, চন্দননগরের আলোয় সাজছে শ্রাবণী মেলা
    এই সময় | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • আর কয়েক দিনের অপেক্ষা। শুরু হচ্ছে তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলা। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ শিবভক্তের সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে এই শৈবতীর্থ। তবে এ বার মেলা একেবারে অন্যরকম হতে চলেছে। প্রথমবার চন্দননগরের বিখ্যাত আলোয় সেজে উঠবে তারকেশ্বর মন্দির থেকে বৈদ্যবাটির নিমাই তীর্থ ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা। এই কাজের বরাত পেয়ে খুশি চন্দননগরের আলোক শিল্পীরাও।

    রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এ বার নতুন রূপে সেজে উঠছে মেলা। মন্দির চত্বর থেকে গোটা যাত্রাপথের একাধিক জায়গায় বসানো হচ্ছে এলইডি আলোর গেট, বিভিন্ন ধর্মীয় মোটিফ। থাকছে ১২ ফুট লম্বা শিবের ত্রিশূল। দেখা যাবে আলোর তৈরি ডমরু। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে চারটি বিশাল আলোর গেটও। রাস্তার দু’ধারের গাছও আলোর মালায় সেজে উঠবে।

    শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিপুল পুণ্যার্থীর সমাগম হয় তারকেশ্বরে। তাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মেডিক্যাল ক্যাম্প, বায়ো টয়লেট, পুলিশি সহায়তা কেন্দ্র-সহ একাধিক পরিকাঠামোর ব্যবস্থাও করছে রাজ্য সরকার। হেলিকপ্টার থেকে পুণ্যার্থীদের উপরে পুষ্পবৃষ্টিরও আয়োজন করা হয়েছে।

    তবে মূল আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে চন্দননগরের আলো। একাধিক আলোক শিল্পী কয়েক লক্ষ টাকার কাজ পেয়েছেন। জগদ্ধাত্রী পুজোর পর সাধারণত বড় কাজের জন্য দুর্গাপুজো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। তাই শ্রাবণী মেলার এই কাজ শিল্পীদের কাছে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল বলে মনে করছেন অনেকে।

    কৈকালা থেকে তারকেশ্বর মন্দির পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার আলোকসজ্জার দায়িত্ব পেয়েছেন শিল্পী মনোজ সাহা। তাঁর কারখানায় এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। জোরকদমে লোহার কাঠামোর উপর আলোর গেট তৈরির কাজ চলছে। তাঁর কথায়, ‘আমরা খুশি। সরকারি ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ হচ্ছে। চন্দননগর লাইটিং অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বরাত দেওয়া হলে শিল্পীদের আরও সুবিধা হতো।’ চন্দননগরের আলো তারকেশ্বরের মতো ঐতিহ্যবাহী তীর্থে পৌঁছনোয় তিনি গর্বিতও।

    অন্য দিকে, আলোক শিল্পী দীপক সাউয়ের কারখানায় তৈরি হচ্ছে ৮ ও ১২ ফুট উঁচু ত্রিশূল, ডমরু এবং কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের আদলে আলোর গেট। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে এখন দিনরাত এক করে কাজ করছেন শিল্পীরা। তিনি বললেন, ‘বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী আলাদা দল কাজ করছে।’ যাঁদের কাজের মান ভালো, তাঁরাই বরাত পেয়েছেন বলে জানালেন দীপক।

    চন্দননগরের আলো শুধু বাংলায় নয়, গোটা দেশেই সমাদৃত। দুর্গাপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো, কালীপুজোর পাশাপাশি আমেদাবাদে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’-র উদ্বোধন থেকে শুরু করে অযোধ্যার রামমন্দির— নানা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে জায়গা করে নিয়েছে এখানকার শিল্পীদের কাজ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলাও।

    তবে শিল্পীদের একটাই দাবি, ভবিষ্যতে চন্দননগর লাইটিং অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সরাসরি কাজের বরাত দেওয়া হোক। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমবে বলে মনে করেন তাঁরা। পাশাপাশি শিল্পীরাও ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবেন। এতে যেমন চন্দননগরের আলোক শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে, তেমনই সরকারের উদ্যোগও আরও সফল হবে বলেই তাঁদের আশা।

  • Link to this news (এই সময়)