বারুইপুরের অশান্তির ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ছিল। রবিবার রাতে গ্রেপ্তার হলেন সিপিএম নেতা লাহেক আলি। উল্লেখ্য, লাহেক আলি বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর এলাকায় বিক্ষোভের সময়ে রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের উপরে হামলা এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, ঘটনার দিন অর্থাৎ রবিবার (৫ জুলাই) আন্দোলনের সময়ে লাহেক আলি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।
বারুইপুরে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পরে রাস্তা অবরোধ, পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, রেল লাইন অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অশান্তির ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হন। নাবালিকা হত্যার ঘটনায় সন্দেহের বশে একজনকে পিটিয়ে হত্যার করার অভিযোগ ওঠে। নিহত যুবকের নাম ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল। এই ঘটনা সম্পর্কে বারুইপুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘যাঁরা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন, তাঁরাই এই অশান্তির ঘটনা ঘটিয়েছেন।’
নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পাশাপাশি অশান্তির ঘটনার পৃথক ভাবে তদন্ত শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রবিবার রাতে এই ঘটনায় উস্কানির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো লাহেককে। যদিও এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।… অশান্তির ঘটনার অনেক পরে লাহেক আলি সেখানে গিয়েছিলেন। তদন্ত করলেই বোঝা যাবে।’
লাহেক আলির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ধর্মীয় অশান্তি, সরকারি কর্মীদের উপরে হামলা, জনসম্পত্তি নষ্ট, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, অপরাধে প্ররোচনা-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি Prevention of Damage to Public Property (PDPP) Act, 1984, MPO Act, 1972 এবং ভারতীয় রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এর একাধিক ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে।