• ভোটার তালিকায় নাম তুলতে নতুন নিয়ম, দিতে হবে বাবা-মায়ের SIR তথ্যও, ফর্ম ৬-এ জুড়ল নতুন বিভাগ
    এই সময় | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • নতুন ভোটারদের জন্য চালু হলো নয়া নিয়ম। ভোটার তালিকায় নাম তুলতে গেলে এ বার থেকে দিতে হবে বাবা-মায়ের SIR সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যও। অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করল নির্বাচন কমিশন।

    প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ জমা দিতে হয়। নতুন করে নাম তোলা বা কোনও কারণে বাদ যাওয়ার পরে ফের আবেদন করতে গেলেও ফর্ম ৬ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই ফর্মেই একটি নতুন বিভাগ যোগ করা হয়েছে। যদিও এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি সরকারি গেজেটে।

    নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, অনলাইনে ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার সময় এই বিভাগ পূরণ করতেই হবে। ফাঁকা রাখা যাবে না। বর্তমানে ফর্ম ৬-এ আবেদনকারীকে পরিবারের সদস্যদের নাম এবং তাঁদের EPIC নম্বর দিতে হয়। এখন থেকে বাবা-মায়ের নাম আগের SIR-এর ভোটার তালিকায় ছিল কি না সেটাও জানাতে হবে।

    ECINET পোর্টালের ফর্ম ৬-এ তিনটি বিকল্প দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর নিজের নাম আগের SIR-এর ভোটার তালিকায় ছিল কি না জানাতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেখাতে হবে বাবা-মা বা দাদু-ঠাকুমার নাম আগের এসআইআরের তালিকায় রয়েছে। তৃতীয়ত, আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কারও নাম আগের SIR-এর তালিকায় নেই, সেটা জানাতে হবে।

    প্রথম বা দ্বিতীয় বিকল্প বেছে নিলে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্র, ভোটগ্রহণ কেন্দ্র (পোলিং বুথ) এবং ভোটার তালিকায় থাকা ক্রমিক নম্বরও জানানো বাধ্যতামূলক। সেই তথ্য না থাকলে তৃতীয় বিকল্প বেছে নিতে পারবেন আবেদনকারী।

    নির্বাচন কমিশনের দাবি, বিহারে প্রথম এই ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। পরে যে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR হয়েছে, সেখানেও একই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। এতে আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই করা সহজ হবে বলে দাবি নির্বাচন কমিশনের। একই সঙ্গে আর অতিরিক্ত নথিও জমা দিতে হবে না বলে জানানো হয়েছে।

    দেশের ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে প্রায় ৫.৫৮ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মৃত, নিখোঁজ এবং অন্যত্র স্থানান্তরিত ভোটাররাও। পশ্চিমবঙ্গেও এসআইআর-এ বহু নাম এখনও বিবেচনাধীন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ। তাঁদের আবেদন এখন ট্রাইবুনালে রয়েছে। এরই মধ্যে অনলাইনের ফর্ম ৬-এ বাবা-মায়ের এসআইআর-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে নতুন বিভাগ যুক্ত হওয়ায় গোটা বিষয়টা আরও জটিল হলো বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

  • Link to this news (এই সময়)