নয়া জমি ও শিল্প নীতি শীঘ্রই: শমীক, জমির অপব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, ফিরছে ইনসেনটিভও
বর্তমান | ১৩ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খুব শীঘ্রই রাজ্যে আসছে নয়া শিল্প ও জমি নীতি। রবিবার শহরে ৬০তম ওয়েস্ট বেঙ্গল গার্মেন্ট বায়ার অ্যান্ড সেলার্স মিটের উদ্বোধনে এসে এই ঘোষণা করেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যসভার এই এমপির কথায়, সবে দু’মাস হল আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এটা ঠিক সুসংহত জমি নীতি ছাড়া শিল্পায়ন সম্ভব নয়। শিল্পপতিদের বিনিয়োগে উদ্যোগী করা যায় না। তাই খুব শীঘ্রই আমাদের সরকার নতুন জমি নীতি ও শিল্প নীতি আনছে। পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।
বাম জমানায় সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে শিল্প করতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছিল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার। জমি অধিগ্রহণ ইস্যুতে হিংসাত্মক বিরোধিতা করে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর গত ১৫ বছরে সরকার জমি অধিগ্রহণের রাস্তায় হাঁটেনি। কিন্তু বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই সীমান্তে কাঁটা তার দেওয়া থেকে বিবিধ ইস্যুতে সরাসরি জমি অধিগ্রহণ করছে। সেই প্রসঙ্গে এদিন শমীকবাবু বলেন, মানুষ প্রগতির জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে জমি দিতে প্রস্তুত। কিন্তু আপনি কৃষকের জমির পাট্টা কেড়ে সেখানে আবাসন গড়বেন, তা চলতে পারে না। অর্থাৎ তিনি পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছেন নয়া জমি নীতিতে শিল্পের স্বার্থে নেওয়া জায়গায় কেবলমাত্র কলকারখানা গড়তে হবে। বিনিয়োগের অভিমুখ বদলানো যাবে না। সেক্ষেত্রে সরকার জমি ফিরিয়ে নিতে পারে।
এদিন সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত এই গার্মেন্ট মিটে হাজির ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। আজ সোমবার নবান্নে শিল্প বিনিয়োগ সংক্রান্ত মন্ত্রিগোষ্ঠী প্রথম বৈঠকে বসতে চলেছে। বিনিয়োগকারীদের লগ্নির গন্তব্য হিসাবে বাংলাকে নতুনরূপে তুলে ধরতে শিল্পসংক্রান্ত উৎসাহ ভাতা দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তাপসবাবু। তিনি বলেন, আমাদের একাধিক পড়শি রাজ্য শিল্প টানতে বিশেষ ইনসেনটিভ দেয়। আমাদের এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। শিল্পক্ষেত্রের জন্য অবশ্যই ইনসেনটিভ দিতেই হবে।
উল্লেখ্য, পূর্বতন সরকার এই ইনসেনটিভ ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দিয়েছিল। স্বভাবতই নতুন শিল্প নীতিতে যে ইনসেনটিভ ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে, শিল্পমন্ত্রীর এদিনের মন্তব্যে মিলেছে সেই ইঙ্গিত। তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে শিল্প কিংবা কৃষি কোনো কিছুরই উন্নতি হয়নি। তা থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শিল্পের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ঠেকে শিখেছে। আমরা এমন কিছু করব না, যাতে চাষিরা কাঁদেন আবার শিল্পপতিরা বাংলা ছেড়ে পালিয়ে যান। আজকের মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে বলেও জানান তাপসবাবু। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এদিন আরও বলেন, শিল্প-বাণিজ্যে খরার জেরে বাংলা ছেড়ে যাওয়া বহু মানুষ ফের রাজ্যে ফিরতে চাইছেন। রাজ্যে পালাবদলের পর একটা উৎসবমুখর আবহ তৈরি হয়েছে। তাতে শামিল হতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন অসংখ্য অনাবাসী ভারতীয় প্রতিনিধি।