• রামমন্দিরে চুরি: সঙ্ঘের বয়ানে নিশানায় ট্রাস্ট?
    এই সময় | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনায় ট্রাস্ট–সদস্য চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি ওঠায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)–এর অস্বস্তি বেড়েছে, কারণ ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণ ভার মূলত ছিল হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনের হাতে। এ বার সেই প্রণামী চুরির ঘটনা নিয়ে পরোক্ষে ভিএইচপি–কেই কাঠগড়ায় তুলল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)–ও। এ দিকে, রামমন্দির ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে বিরোধী আক্রমণও জারি। সঙ্ঘ–প্রধান মোহন ভাগবত আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রণামী চুরির ঘটনার জন্য মন্দির ট্রাস্টের গাফিলতি দায়ী। এ বার কর্নাটকের বেলগাভিতে আরএসএসের বার্ষিক বৈঠকেও উঠে এলো একই সুর।

    তিন দিনের বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে আরএসএসের বক্তব্য, 'আমাদের প্রত্যেক সদস্য রাম জন্মভূমি মন্দিরের প্রণামী দুর্নীতির ঘটনায় গভীর দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে তীর্থক্ষেত্র ন্যাসের অনুরোধে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এবং পুলিশ যে তদন্ত শুরু করেছে, তাতে সিদ্ধান্তমূলক কিছু বেরিয়ে আসবে বলেই আশাবাদী সকলে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে এবং রামভক্তদের বিশ্বাস আহত না হয়, আশা করি তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করবে তীর্থক্ষেত্র ন্যাস।' রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতির মাধ্যমে আদতে ভিএইচপি–কেই কাঠগড়ায় তুলেছে সঙ্ঘ পরিবার। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকার এই ট্রাস্ট তৈরি করে দিলেও এর সিংহভাগ পদেই আছেন ভিএইচপি সদস্যরা। ভিএইচপি–র তরফে অবশ্য আগেই দাবি করে হয়েছিল, চম্পতকে ট্রাস্টে তারা নিয়োগ করেনি, ফলে প্রশ্নের মুখে পড়া চম্পত রাই রামমন্দির ট্রাস্টে ভিএইচপি–র প্রতিনিধি নন।

    রামমন্দির ইস্যুতে বিরোধীদের নিশানায় অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)–এর নিরপেক্ষতা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিল কংগ্রেস। রবিবারও সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের দাবি তুলেছে তারা। কংগ্রেস নেত্রী মিতা চক্রবর্তী এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, 'সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও) রামমন্দির ট্রাস্ট গঠন করেছে এবং ট্রাস্ট সদস্যদের নিয়োগ করেছে। নিযুক্তদের কাজের দায়িত্বও নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল পিএমও। এখন যখন আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, তখন প্রধানমন্ত্রী চুপ কেন?' কংগ্রেস নেত্রীর মতে, দুর্নীতির যেটুকু অভিযোগ সামনে এসেছে, সেটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র, তাই 'দুর্নীতি চক্র' ফাঁস করতে সুপ্রিম কোর্টের নজরাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

  • Link to this news (এই সময়)