বিনপুরের হাড়দা এলাকায় লক্ষ্মীর সঙ্গে পূজিত হন সরস্বতী, পুজোর প্রস্তুতি শুরু
বর্তমান | ১৩ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বিনপুর-২ ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকা হাড়দা। আশ্বিন মাসে ধুমধাম করে গ্ৰামে লক্ষ্মীপুজো হয়। কোজাগরী পূর্ণিমায় একাচালায় লক্ষ্মী-সরস্বতী একসঙ্গে পূজিত হন। পুজো উপলক্ষ্যে মন্দির এলাকায় মেলা বসে। মেলার প্রধান আকর্ষণ জিলিপি। এবছর নিলামে ৩ লক্ষ ৯১ হাজার টাকার দর হেঁকে জিলিপির দোকান করার বরাত পেলেন স্থানীয় মোদক বিক্রেতা। শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো কমিটির তরফে পুজোর আয়োজন করা হয়।গ্ৰামবাসীদের ঘরে ঘরে শালগ্ৰাম শিলায় নারায়ণ পুজো হয়। নারায়ণের সঙ্গে লক্ষ্মীরও পুজো করা হয়। বিষ্ণু পুরাণ মতে নারায়ণের দুই স্ত্রী লক্ষ্মী ও সরস্বতী। লক্ষ্মীর সঙ্গে গ্ৰামবাসীরা সরস্বতীরও পুজো করেন। পুজো এবার ১৬৪ তম বর্ষে পদার্পণ করছে। পুজোর বাজেট ১৫ লক্ষ টাকা। তিনমাস আগে থেকেই মন্দির রং করা, মেলার আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। একচালায় লক্ষ্মী সরস্বতীর মূর্তির উপর নারায়ণ থাকেন। পুজোয় ফল মিষ্টির পাশাপাশি বেসনের তৈরি দরবেশ ভোগ দেওয়া হয়। মেলায় জিলিপির দোকান করার জন্য নিলাম ডাকা হয়। স্থানীয় মোদক বিক্রেতা সিন্টু সাহা গত বছর ২ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা দর হেঁকে মেলায় জিলিপির দোকান করার বরাত পেয়েছিলেন। এবার ৩ লক্ষ ৯১ হাজার ৬০১ টাকা দর হেঁকে তিনি দোকান করার বরাত পেয়েছেন। পুজো কমিটির সম্পাদক কার্তিক মণ্ডল বলেন, ঐতিহ্য মেনে গ্ৰামে লক্ষ্মী -সরস্বতীর পুজো হয়। মন্দির সংলগ্ন চত্বরে মেলা বসে। নিলামে ডাকের মাধ্যমে একজন মাত্র জিলিপি বিক্রির দোকানের বরাত পান। মেলায় যাত্রাপালা প্রধান আকর্ষণ। মেলা কমিটির সভাপতি সমর মণ্ডল বলেন, কোজাগরী পূর্ণিমার লক্ষ্মীপুজো গ্ৰামের প্রধান উৎসব। পুজোর সময় বাসিন্দারা নতুন জামাকাপড় কেনেন। আত্মীয়স্বজনরা আসেন। পুজো সুষ্ঠুভাবে করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কমিটির তরুণ সদস্য সুজয় মণ্ডল বলেন, আমরা চাইছি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ প্রত্যন্ত এই গ্ৰামের লক্ষ্মী পুজোর কথা জানুক।-নিজস্ব চিত্র