• নবদ্বীপে এই প্রথম রথযাত্রায় বের হবেন চক্রবর্তী বাড়ির নীলমাধব
    বর্তমান | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: দেশভাগের সময় রাজশাহী জেলার নাটোরের ভুজনগাছা থেকে নবদ্বীপে এসেছিল চক্রবর্তী পরিবার। এখানেই চক্রবর্তী বাড়ির গৃহদেবতা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে নীলমাধব নামে এখানে জগন্নাথ পুজো পেয়ে এসেছেন। এবারই প্রথম ১৫ফুট উঁচু লোহার দোতলা রথে তিন বিগ্রহকে মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে। এই রথযাত্রা ঘিরে নবদ্বীপের ৭নম্বর ওয়ার্ডের প্রাচীন মায়াপুরের হালদারপাড়ার বাসিন্দাদের উৎসাহ তুঙ্গে।

    চক্রবর্তী পরিবারের সদস্য তপন চক্রবর্তী বলেন, নাটোরে আমাদের পূর্বপুরুষ গঙ্গেশ চক্রবর্তীর হাত ধরেই এই পূজার সূচনা। ঠাকুমার মুখে শুনেছি, একসময় গঙ্গেশ চক্রবর্তী অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে স্ত্রীকে নিয়ে পুরী যান। সেখানে জগন্নাথদেবের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, শরীর সুস্থ হোক বা না হোক, তিনি প্রতিদিন প্রভুর দর্শন করবেন। পুরী থেকে ফিরে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপর বাড়িতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। দেশভাগের পর তাঁর পুত্র সুরেশচন্দ্র জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার নিমকাঠের প্রায় দেড় ফুট উঁচু বিগ্রহ নবদ্বীপে নিয়ে আসেন। এরপর সুরেশবাবুর পুত্র সুশীল চক্রবর্তী ও তাঁর পুত্র তপন চক্রবর্তী এই পুজোর হাল ধরেন। প্রতিদিন সকালে বাল্যভোগে চিঁড়ে, মুড়কি ও খই, মধ্যাহ্নে অন্ন, পঞ্চব্যঞ্জন, ডাল, রসা এবং রাতের ভোগে ফল নিবেদন করা হয়। তপনবাবু বলেন, এবারই প্রথম পরিবারের গৃহদেবতা রথে চড়ে নগর পরিক্রমায় বের হবেন। প্রাচীন মায়াপুরের বসাকপাড়া, নিমতলা মোড় ও কপালিপাড়া হয়ে প্রতিবেশী দেবু দত্তের বাড়িতে নির্মিত মাসির বাড়িতে রথ পৌঁছাবে। দেবু দত্ত জানান, এটা এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল। এবছর তা বাস্তবায়িত হল।

    চক্রবর্তী পরিবারের গৃহদেবতা ‘নীলমাধব’ নামেই পরিচিত। শবর সম্প্রদায়ের কাছে নীলবর্ণে দর্শন দেওয়ার ঐতিহ্যের কারণেই এমন নামকরণ। গৃহকর্ত্রী শ্রাবণী চক্রবর্তী বলেন, প্রতিদিন নিজের হাতে জগন্নাথদেবের মধ্যাহ্নভোগ রান্না করি। দুই মেয়ে স্বর্ণালী ও সঞ্চয়িতা পুজোর আয়োজনে সাহায্য করে। • নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)