দ্রুত পুরসভার ভোট চান দুর্গাপুর, আসানসোলবাসী, কাউন্সিলারের কাজ করছেন মন্ত্রী
বর্তমান | ১৩ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: জিটি রোডের পাশে অগ্নিমিত্রা পালের বিধায়ক কার্যালয়ে তিল ধারণের জায়গা নেই। কেউ এসেছেন রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিটেক নিতে। কেউ এসেছেন ওয়ারিশন সার্টিফিকেট দিতে। পুরমন্ত্রীর হাজারও ব্যস্ততা। তার মাঝেই একের পর এক শংসাপত্রে সই করে চলেছেন। শংসাপত্র নিতে আসা শিপ্রা দে বলেই ফেললেন, ‘কাউন্সিলারের কাজ কী আর মন্ত্রীর পক্ষে করা সম্ভব? দ্রুত ভোট হলে ভালো হয়।’
হীরাপুর থানার মহিশীলা এলাকাতেও একই দশা। সেখানেও বিধায়ক কার্যালয়ে মানুষের লাইন। ওয়ারিশন সার্টিফিকেট নিতে এসেছেন সোনামনি মুর্মু। তিনিও বলেন, ‘দ্রুত পুরভোট হলে কাউন্সিলারের কাছেই এই সব কাজ দ্রুত হয়ে যাবে।’
শুধু অগ্নিমিত্রার দুয়ারেই নয়, পশ্চিম বর্ধমান জেলার সবক’টি বিধায়কের অফিসেই মানুষের ঢল। একে নতুন বিধায়কদের সংবর্ধনা পর্ব এখনও মেটেনি। তারই মধ্যে তাঁবেদাররা বিধায়ক অনুগামী হতে ভিড় করছেন। সেই সব বাধা টপকে সাধারণ মানুষকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র। ইনকাম সার্টিফিকেট, রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট, ওয়ারিশন সার্টিফিকেট থেকে বিভিন্ন ফর্মের সইয়ের জন্যও জনপ্রতিনিধির প্রয়োজন হয়। তা নিয়ে ভোগান্তি চরমে। এর মূল কারণ আসানসোল ও দুর্গাপুর দু’টি পুরসভাতেই নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। ২০২২ সালেই দুর্গাপুরে নির্বাচিত পুর বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকেই পুর ভোট করাতে তৎপর হয়নি তৎকালীন তৃণমূল সরকার। সরকার বদলের পর জেলাশাসকেই প্রশাসক করেছে নতুন বিজেপি সরকার। তাই শংসাপত্র পাওয়ার সম্ভাবনা আরও কমেছে। অন্যদিকে আসানসোলে নির্বাচিত পুরবোর্ড থাকলেও তা ভেঙে দিয়েছে পুরদপ্তর। এতে সেখানেও একই সমস্যা। পুর পরিষেবা থেকে শংসাপত্র পেতে হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ। তাঁরা চাইছেন বিজেপি সরকার দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পুর ভোটের ব্যবস্থা করুক।
জনগণের এই প্রত্যাশাকে অবজ্ঞা করলে ফল কতটা ভয়ানক হতে পারে, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে তৃণমূল। ২০১৭ সালে দুর্গাপুর পুরসভা ভোট লুট করে তৃণমূল জয়লাভ করেছিল বলে অভিযোগ। মানুষের প্রতি বেশিরভাগ কাউন্সিলারের তাই দায়বদ্ধতা ছিল না। এতে মানুষের সঙ্গে শাসক দলের নেতাদের দূরত্ব বেড়েছে। সেই বছর থেকে দুর্গাপুরে আর জয়ের মুখ দেখেনি তৃণমূল। ২০২২ সালে আসানসোল পুরসভার ভোটও তৃণমূল অস্বচ্ছভাবে করেছিল বলে বিরোধীরা অভিযোগ তোলে। স্বাভাবিকভাবেই শাসকদলের বেশিরভাগ কাউন্সিলারের প্রতিই মানুষের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। ভোটের জেতার তাগিদ না থাকায় নিজের ভোটারদেরই অবহেলা করেছিলেন বহু কাউন্সিলার। এবার বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কার্যত সাফ হয়ে গিয়েছে। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা বিজেপি নেয় কিনা সে দিকেই তাকিয় আম জনতা।
পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘তৃণমূলের জন প্রতিনিধিরা তো শংসাপত্র নিতেও টাকা নিয়েছেন। আমাদের বিধায়কদের কার্যালয় থেকে সব সময় মানুষের জন্য কাজ করা হচ্ছে। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। মুখ্যমন্ত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।’ সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সিদ্ধার্থ বসু বলেন, ‘শংসাপত্র থেকে পুর পরিষেবা পেতে মানুষ হয়রানি হচ্ছে। আমরা এই সপ্তাহেই প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেব।’ কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘তৃণমূল ও বিজেপি একই বৃন্তের দুটি ফুল। তৃণমূল এতদিন মানুষকে হয়রানি করিয়েছে। এখন বিজেপিও একই কাজ করছে।’