সংবাদদাতা, খাতড়া: কয়েক দশক ধরে বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে গ্রামে যাওয়ার প্রধান রাস্তা। রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় গ্রামে ঢোকে না কোনো গাড়ি সহ অ্যাম্বুলেন্সও। অন্যান্য সময় সমস্যা থাকলেও প্রতিবছর বছর বর্ষায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় গ্রামবাসী সহ স্কুল পড়ুয়াদের। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে জানিয়েও রাস্তা সংস্কার হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে নিজেরাই রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত লাগালেন গ্রামের মহিলা সহ গ্রামবাসীরা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে রানিবাঁধের খেড়িয়াশায় গ্রামে ঢোকার প্রধান রাস্তার সংস্কার হয়নি বলে দাবি সিপিএমের। তৃণমূলের সাফাই ওই রাস্তার কাজ শুরু হলেও হঠাৎ বালির দাম বেড়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদার সংস্থা। তবে দোষারোপের রাস্তায় না হেঁটে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। তবে কয়েক দশক ধরে বেহাল হয়ে পড়ে থাকা রাস্তার আদৌ কবে সংস্কার হবে, তা নিয়ে চিন্তিত গ্রামবাসীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রানিবাঁধের রাজাকাটা অঞ্চলের আদিবাসী অধ্যুষিত খেড়িয়াশায় গ্রাম। গ্রামে ৭০টি পরিবারের বসবাস। গ্রামে যাওয়ার প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। গত কয়েকদিনের বৃষ্টির জল রাস্তার উপর জমে থাকায় সমস্যায় পড়ে স্কুল পড়ুয়ারা থেকে অসুস্থ মানুষজন। প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ হয়নি। অবশেষে বাধ্য হয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত লাগালেন গ্রামবাসীরা।
মালাবতী বাস্কে ও নারান মাহাত বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বেহাল হয়ে রয়েছে রাস্তা। যাতায়াত করতে গিয়ে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। গ্রামের পড়ুয়াদের রানিবাঁধ হাইস্কুলে এবং অসুস্থ রোগীদের এই বেহাল রাস্তা দিয়েই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হয়। এই রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। তাই আমরা গ্রামবাসীরা টাকা খরচ করে পাথর ও মাটি দিয়ে রাস্তা সংস্কার করছি। সিপিএমের বাঁকুড়া জেলা কমিটির সদস্য মধুসূদন মাহাত বলেন, রাজাকাটা অঞ্চলের ওই এলাকায় তৃণমূল একবার জিতেছিল। ওই এলাকা থেকে বরাবর বামফ্রন্ট জিতে আসে। তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে রাস্তা সংস্কার হয়নি। এদিন বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা রাস্তা সংস্কার করেন। তৃণমূলের প্রাক্তন রানিবাঁধ ব্লকের সভাপতি তথা বাঁকুড়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ চিত্তরঞ্জন মাহাত বলেন, রাস্তাটি পাকা করার জন্য পঞ্চায়েতের তরফে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কাজও শুরু হয়। তবে পরে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জানান, হঠাৎ বালির দাম বেড়ে যাওয়ায় টেন্ডারে নির্ধারিত অর্থে কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। সেই কারণে রাস্তা নির্মাণকাজ মাঝপথে থমকে যায়। মন্ত্রী ক্ষুদিরামবাবু বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরের বাইরে ছিল। দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাস্তার সংস্কারে হাত লাগিয়েছেন বাসিন্দারা। রানিবাঁধের গ্রামে।