নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফুটবল জার্সি কি আচমকা ‘ফ্যাশন স্টেটমেন্ট’ হয়ে গেল? নাকি আগেই ছিল? আর্জেন্টিনার বিজয় সকালে শহর কলকাতা থেকে মফসসল, অলিগলি হয়ে উঠেছিল ‘জার্সিময়’। তবে সেখানে কমেছে হলুদ-সবুজের আনাগোনা। তার বদলে অনুপ্রবেশ ঘটেছে গাঢ় নীল রঙের ফ্রান্স কিংবা সাদাটে রঙের স্পেনের জার্সির। পিঠে লেখা এমবাপে কিংবা ইয়ামালের নাম। মানে ব্রাজিল ছেড়ে কি অনেকে ফ্রান্স কিংবা স্পেনের জার্সি গায়ে তুলে নিলেন? এমন প্রশ্নের উত্তর সচরাচর এড়িয়েই যায় বাঙালি। তবে জার্সির নিরিখে কলকাতার বাজারে নেইমার, রোনাল্ডো এখন শুধু আবেগে আছেন। আর মেসির জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন তরুণ এমবাপে ও ইয়ামাল।
রবিবারের সকালে তখনও আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে যাওয়া নিশ্চিত হয়নি। এদিকে, হাটে-বাজারে বেচাকেনার ব্যস্ততার মধ্যেই গড়িয়া স্টেশনে এক বিক্রেতাকে দেখা গেল ফোনে খেলা দেখতে দেখতেই মাছ কাটছেন তিনি। এই টুকরো ছবি আবার ফিরে আসে রবিবার বিকালের ময়দান মার্কেটে। এদিন ভিতরের বাজার বন্ধ। কিন্তু বাইরে ফুটপাতে দেদারে বিকোচ্ছে জার্সি। দাম কি একটু কমল? বিশ্বকাপ তো শেষের পথে, ব্রাজিল আউট, তাহলে হলুদ জার্সি কি একটু কমে পাওয়া যাবে? এমনই সব প্রশ্ন উড়ে এল বিক্রেতাদের উদ্দেশে। যদিও এদিন ১২০০, ১৪০০ টাকার জার্সি মোটামুটি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে। বিক্রেতাদের বক্তব্য, ‘বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানের জার্সি আসছে। তাই দামের হেরফের হচ্ছে।’ তবে এসব যুক্তি তরুণ ফুটবলপ্রেমীরা মানতে চাইছেন না। ফুটবলপ্রেমীদের নতুন চাহিদার জায়গা হয়েছে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড কিংবা স্পেনের জার্সি। স্পেনের ক্ষেত্রে সাদাটে রঙের অ্যাওয়ে জার্সির চাহিদা তুঙ্গে। তবে পিছনে ইয়ামালের নাম লেখা চাই। এদিকে, ফ্রান্সেরও অ্যাওয়ে জার্সির চাহিদা বেড়েছে। তবে অনেকের আবার নীল জার্সি প্রিয়। কারণ? হাওড়ার এক ফুটবলপ্রেমী দিগন্ত মিত্র বলছিলেন, ‘একমাত্র এই জার্সিতেই কলার রয়েছে। সব জায়গায় পরা যাবে। এখন তো নতুন তারকা এমবাপে। ফলে, ফ্রান্সেই আছি।’ আবার অনেকের কাছে জার্সি এখন ‘ফ্যাশন স্টেটমেন্ট’। কারণ, জার্সি পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস তৈরির চল বেড়েছে। তাই পর্তুগালের কালো জার্সির চাহিদাও বেশ রয়েছে।
আর আর্জেন্টিনা তো বাঙালির কাছে চিরকালীন। নীল-সাদা জার্সির গায়ে মেসির নাম লেখার চাহিদা থাকছেই। তবে বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে শহরবাসীর পিঠে জায়গা করছে এমবাপে-ইয়ামাল। নিজস্ব চিত্র